কানের স্বর্ণের রিংয়ের জন্যই শিশু জান্নাতিকে হত্যা

0
133

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

শিশু জান্নাতি খাতুনের কানের সোনার রিং তার জীবনের কাল হয়েছে। একই গ্রামে অভাবি সেলিনা খাতুন নিজের সমিতির কিস্তির টাকা পরিশোষ করতে ব্যর্থ হয়ে শিশুটির কানের সোনার রিংয়ের উপর তার চোখ পরে। সে প্রথমে শিশুটির শ্বাষরোধ করে চিৎকার বন্ধ করার চেষ্টা করে। শিশুটি মারা গেলে প্রথমে খড়িরর ভিতর লুকিয়ে রাখে। পরে মৃতদেহটি পুকুরে ফেলেদেয়।

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে শিশু জান্নাতি খাতুন নিখোজ হয় গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর)। সেদিন রাতেই শিশুর মৃতদেহ ভেসে ওঠে খুনি ওই নারীর বাড়ি পেছনের পুকুরে।

হত্যার সাথে জড়িত আটক সেলিনা খাতুন বাগুটিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী। আর নিহত জান্নাতি একই এলাকার খোকন ভুঁইয়ার মেয়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী র‌্যাবকে জানান, সমিতির কিস্তির টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে শিশু জান্নাতির কানের স্বর্ণের রিংয়ের দিকে নজর পড়ে তার। আর সেই রিংয়ের জন্যই হত্যা করা হয় শিশুকে।

আটককৃত সেলিনা খাতুনের স্বামী রবিউল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী বিভিন্ন সমিতি থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা মতো ঋণ তুলেছে। কিন্তু কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারার কারণে জান্নাতির কানের স্বর্ণের রিংয়ের জন্য এমন কাজ করেছে।

র‌্যাব জানায়, রবিবার দুপুরে শৈলকূপার হাটফাজিলপুর বাজারের একটি সোনার দোকান থেকে এই কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব গ্রেপ্তারকৃত সেলিনা খাতুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে। কানের দুলের জন্যই শিশু জান্নাতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান সেলিনা।

ঝিনাইদহ র‌্যাবের কোম্পানি কমন্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইসতিয়াক হোসেন জানান, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আসামি সেলিনা বেগম বাগুটিয়া গ্রামে নিজ এলাকায় নিজেকে আত্মগোপন করে অবস্থান করছিল। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও জানান, আসামি গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজ বসতবাড়ির পেছনের রাস্তায় শিশু জান্নাতিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক তার কানে পরিহিত স্বর্ণের রিং নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিথর দেহ কাঠের লাকড়ির ভেতর রেখে ভিকটিমের কান থেকে রিং খুলে নিয়ে স্বর্ণকারের দোকানে বিক্রি করে। পরে লাশ গুম করার জন্য নিকটস্থ পুকুরে ফেলে রেখে চলে যায়।