খোকসার নতুন দাশপাড়ায় জমে উঠেছে বাসন্তি পূজা

0
16

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার ১৫ গজ দূরত্বে পৃথক দু’টি মন্ডপে জমে উঠেছে বাসন্তি পূজা। পৃথক প্রতিমা, পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকলে অভাব নেই সৌহাদ্য সম্পৃতির।

মাত্র ১৫ ঘর ঋষি পরিবারের বাস উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন কমলাপুর হাওড় নতুন দাশপাড়ায়। এবছরই প্রথম প্রতিমা তুলে বাসন্তি পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বাধসাধে অপ্রকাশিত নেতৃত্বের কন্দোল। শেষ পর্যন্ত ছোট একাটি পাড়ায় দু’টি পৃথক মন্ডপে প্রতিমা তুলে বাসন্তি পূজার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পৃথক মন্দিরের দেবী বোধন হয়। শুক্রবার সপ্তমী পূজার মধ্যদিয়ে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়েছে। রবিবার দশমী পূজার আনুষ্ঠানিকতার পর গড়াই নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

শুক্রবার দুপুরের সরেজমিনে দেখা যায়, খোকসা-বনগ্রাম গ্রামীন পাকা রাস্তার সিরাজপুর হাওড় নদীর উৎস্যমুখের ব্রিজের আগেই কমলাপুর নতুন দাসপাড়া। পাকারস্তা থেকে নেমে পায়ে হাটা সরু পৃথক গলি দিয়ে ১০০ গজ এগিয়ে গিয়ে পাড়ার মধ্যে ১৫ গজের দূরত্বে দুটি মন্ডপে পৃথক প্রতিমা তুলে পূজা শুরু হয়েছে। মন্দির ঘিরে বসেছে কয়েকটি দোকান। শিশু, বৌ-ঝি থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও ছুটে যাচ্ছে এ মন্দির থেকে ও মন্দিরে। আনন্দ উল্লাশের কমতি নেই। দুটি মন্দিরে তখন সপ্তমী পূজার আয়োজন চলছিল। এর জন্য বিশেষ কোন নিরাপত্তা চোখে পরেনি।

নতুন মন্ডপে পূজারীর সহযোগীতা করছিলেন সন্ধ্যা রানী দাশ। নিজে পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত পড়েছেন। দশ বছরের বেশী সময় বিয়ে হয়ে এই নতুন পাড়ায় এসেছেন। তার কাছে পূজা ভাগের বিষয়টি ভালো লাগেনি। সবাই মিলেঝিলে এক পূজা করলেই যেন ভালো হতো।

এই মন্দিরের পূজারীর আর এক সহযোগী নবম শ্রেণির ছাত্রী তৃপ্তি দাসও পূজা ভাগের বিপক্ষে। তিনি আর বলেন, পূজা যখন শুরু হয়ে গেছেই তখন তিন বছর নিয়ম মেনে পূজা করতেই হবে।

পুরাতন মন্দিরের পূজারীর সহযোগিতা করছিলেন বয়বৃদ্ধা রানী বালা দাশ। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে এই নতুন পাড়া হয়। তখন এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। এখানে কার্তয়ণী পূজা ও কালীপূজা হয়ে আসছে। এবার পাড়ার ছেলে-ছুকরাদের কি মনে হয়েছে পূজা ভাগ করতে হবে। এইটুকু পাড়ায় দুই খানা পূজা। এবার ঠেলা সামলা।

পুরাতন মন্দিরের সেক্রেটারী ভজন দাশ বলেন, সবাই আমরা আমরা। এখানে বিরোধের কিছু নাই। আমাদের মহিলারা ওই মন্ডপে যাচ্ছে। ওরা আসছে। খাই-দাই চলছে। সবই ঠিকা আছে। এলাকার সবার সহযোগিতায় সুন্দর ভাবে পূজার শেষ নামবে বলে তিনি মনে করেন। বৃহস্পতিবার দুই দফাই পুলিশ এসেছিল। নিরাপত্তার অভাব নেই।

নতুন মন্ডপ কমিটির সভাপতি শান্ত কুমার দাশ বলেন, আমরা সামান্য ১৫ ঘর ঋষি পরিবার এখানে বাস করি। আমাদের সুখে দুখে এলাকার সব ধর্মের মানুষ রয়েছে। ভালোভাবে পূজা শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন – চা খেতে যাওয়ায় কাল হলো বৃদ্ধের

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, পাশা পাশি দুটি মন্ডপে একই পূজা হচ্ছে। ওখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ পাটি দেওয়া আছে।