কুষ্টিয়া প্রতিরিধি
একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এইবার যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান অতীতের বিপ্লবের মতো ব্যর্থ হবে।
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না। একাত্তর আমাদের স্বাধীন ভুখন্ড উপহার দিয়েছে। এই স্বাধীনতাকে কোন ভাবেই অন্যকোন বিপ্লব বা আন্দোলনের সাথে তুলনা করা যাবে না। একাত্তরের শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে আমরা অন্যান্য আন্দোলন করার সাহস পেয়েছি।
বুধবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, চব্বিশে আমরা সর্বশেষ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এই লড়াই সবে মাত্র শুরু হয়েছে। হাসিনার পতন হয়েছে কিন্তু হাসিনার ফ্যাসিবাদ তন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এখনো সচিবালয়, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ সকল বাহিনীতে আওয়ামী লীগের প্রেত্মাতারা রয়েছে। আমাদের লড়াই তখনি শেষ হবে যখন আমরা আওয়ামী লীগের সা¤্রাজ্যকে ভেঙে চুড়ে খানখান করে ফেলতে পারবো।
সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সম্ভব নয় এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, নাহিদ ইসলামের উপরে মানুষ আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা রেখেছিলেন। তিনি উপদেষ্টা হয়েছেন। গণহত্যার বিচার করবেন, রাষ্ট্র সংস্কার করবেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবেন। কিন্তু সেটি না করে পদত্যাগ করে দল গঠন করেছেন। এবং আগামীতে এই দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়াকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, সরকারে থেকে যে কাজ করা যায়, সরকারের বাইরে এসে সে কাজগুলো করা যায় না। নাহিদ ইসলাম এখন যে কথাগুলো বলছেন গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার। তার কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কেন রাষ্ট্র সংস্কার করলেন না, আপনি কেন গণহত্যার বিচার করলেন না। আপনি কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে পদত্যাগ করলেন। আপনারা ছাত্র উপদেষ্টারা যখন শপথ নিলেন তখন আপনারাই বলেছিলেন যারা উপদেষ্টা পথে গেল তারা আগামীতে নির্বাচন করতে পারবে না। এখন সব ভুলে গিয়েছেন। যদি এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিচার না হয়, রাষ্ট্র সংস্কার না হয়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হয় তাহলে সব থেকে বেশি দায়ী থাকবেন তিনজন ছাত্র উপদেষ্টা। সুতরাং আমি নাহিদ ইসলামকে বলবো আপনি এখন যে কথা বলছেন তা বাস্তবায়নের জন্য এদেশের জনগণ আপনাকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আপনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রপধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাশেদ খান বলেন, চীন থেকে ফিরে আপনি জাতীয় সংলাপের আহব্বান করুন। সেই জাতীয় সংলাপে সকল দল যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে তাদের মতামত নিবেন। আমরাও দেখতে চাই কারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাই। কারা রাষ্ট্র সংস্কার চাই না, কারা গণহত্যার বিচার চাই না।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, তার আগেই প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের যারা গণহত্যার সাথে জড়িত তাদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
আমি প্রধান উপদেষ্টাকে বলবো রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আপনি সবাইকে ডেকে রাষ্ট্র সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। এসব পাঠ্যপুস্তক দিয়ে কিছু হবে না।
এ সময় গণ অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।