Home breaking news খোকসায় ধর্ষীত শিশুর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

খোকসায় ধর্ষীত শিশুর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

0
7

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় রাতে নিরাপদে বাড়ি পৌচ্ছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে পথমধ্যে ধর্ষীত ৮ বছরের শিশুর বাবার শেষ আশ্রয় বসত বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবারদ করছে। ঘর পোড়ানোর ঘটনায় নতুন আর একটি মামলাও হয়েছে।

গত শুক্রবার গভীর রাতে আকষ্মিক আগুনে ভষ্মে পরিনত হয় ধর্ষীতা শিশুর মাথাগোজার একমাত্র টিনের ছাপড়া ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাড়িতে না থাকায় জীবন রক্ষ পেয়েছে গোটা পরিবারের সদস্যদের।

খোকসা থানা পুলিশ বলছে, ধর্ষীতার বাবার ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষন মামলার আসামীর ছেলে তারেক কাজীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আর একটি মামলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গোপগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খদ্দোসাধুয়া গ্রামে সরেজমিন গিয়ে ধর্ষীত ৮ বছরের শিশু ও তার মা কে পাওয়া যায়নি। মাথা গোজার একমাত্র ছাপড়া ঘর ও পাশের রান্নার জায়াগার খুপড়ি ঘরটির সব পুড়ে গেছে। সামান্য কিছু বাঁশের খুটি দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের মাঝখানে কিছু বিছনা বালিশের আংশিক পোড়া অবস্থায় পরে আছে।

শিশুটির বৃদ্ধা দাদি জানান, রাতে তারা সবাই ছোট ছেলের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের বাড়ির অনুষ্ঠানের লাইটের লোকরা দূর থেকে আগুন দেখে চিৎকার করে। এ সময় গ্রামের মানুষ এগিয়ে এসে আগুর নেভায়। আগুন লাগার সময় ঘরে কেউ ছিলেন না।

তিনি আরও দাবি করেন, তার ৮ বছরের নাতিন ধর্ষন হয়েছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে। ওই মামলার একমাত্র আসামী আফজাল কাজীর লোকজন আগুন দিতে পারে। আবার অন্য কেউ আগুন দিতে পারে।

শিশুটির চাচা বলেন, কয়েকদিন ব্যস্ত থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পরেন। পরে লোজনের শোর-চিৎকারে তিনি জেগে দেখেন তার ভাইয়ের আর কিছুই নাই। সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

গোপগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর সোবাহান আলী জানান, কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া ওই বাড়িতে গভীর রাতে আগুন লাগবে কি করে। তিনিও ওই শিশু ধর্ষনের বিচার দাবি করে। এ নিয়ে নানা মুখি সড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনা স্থলে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই তারিকুল ইসলাম বলেন, তারা এলাকায় শন্তি রক্ষায় কাজ করছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বাঁকি টুকু ওসি সাহেব বলতে পারবেন।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাঈমুল ইসলাম বলেন, ধর্ষন ঘটনা শোনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধর্ষক আফজাল কাজীকে খোকসা রেল ষ্টেশন থেকে আটক করা হয়। মামলা হয়। শনিবার শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে। হঠাৎ করে ধর্ষীতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে শোনা মাত্র সেখানে গিয়ে তারেক কাজী নামের এক সন্ধেহ ভাজনকে থানায় এনে জ্ঞিাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পৃথক মামলা রেকর্ড করে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীরা পার পাবে না।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিনগত রাতে খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের খদ্দোসাধুয়া গ্রামে ৮ বছরের শিশু ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০ ঘন্টা পর বুধবার (২এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। রাতেই ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী ধর্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে তার (ধর্ষকের) বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন – প্রেরণা

মঙ্গলবার সকালে ৮ বছর বয়সী ওই শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে পেঁয়াজ কাটার জন্য আফজাল কাজী তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। অন্য শিশুরা দিনের ভাগে বাড়ি ফেরে। তবে ৮ বছর বয়সী ওই মেয়ে শিশুটি পেঁয়াজ কাটতেই থাকে। রাত ৮ টার দিকে শিশুকে নিরাপদে বাড়ি পৌচ্ছে দেওয়ার কথা বলে আফজাল কাজী তাকে নিয়ে রওনা হয়। পথের মধ্যে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে শিশুটিকে ধর্ষন করে বৃদ্ধ আফজাল কাজী। পরে তাকে (শিশুকে) নিজ বাড়িতে পৌচ্ছে দিয়ে যায় ধর্ষক নিজে।