ছয় দফা বঙ্গবন্ধুর নিজের চিন্তার ফসল: প্রধানমন্ত্রী

0
124
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সোপান হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রণয়ন করেছিলেন, তার পুরোটা নিজের চিন্তা থেকে তৈরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে বুধবার ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবসের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় দফা প্রণয়নটা এটা অনেকে অনেকভাবে বলতে চায়। কেউ এর পরামর্শ, ওর পরামর্শ। কিন্তু আমি নিজে জানি যে, এটা তার সম্পূর্ণ নিজের চিন্তার ফসল। কারণ তাকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো ১৯৫৮ সালে এবং তিনি ১৯৫৯ সালের ১৭ই ডিসেম্বর মুক্তি পান, সেই সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ। ঢাকার বাইরে যেতে পারতেন না, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তখন তিনি চাকরি নিলেন আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে। তখন তাজউদ্দিন সাহেব গ্রেপ্তার ছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে উনি একটা চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাতে। বঙ্গবন্ধু নিজে গিয়ে তাজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে এসে আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি দিলেন। মোহাম্মদ হানিফ তাকেও কিন্তু আলফা ইন্সুরেন্সে চাকরি দেন তার পিএ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু সব সময় নিজে বসে বসে চিন্তা করতেন, নিজেই লিখতেন এবং হানিফকে দিয়ে এটা টাইপ করাতেন। এখানে শুধুমাত্র একমাত্র হানিফ জানতো, সেই টাইপ করেছিল এছাড়া কিন্তু আর কারো জানা ছিল না। এটা সম্পূর্ণ তার (বঙ্গবন্ধু) নিজের চিন্তার থেকে এই ছয় দফাটা কিন্তু তৈরি করা।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখন লাহোরে গিয়ে এটা পেশ করার চেষ্টা করেন সেখানে প্রচ- বাধা আসে। পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা প্রচ- বাধা দেয়। বাধা পেয়ে তিনি সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে সেটা তুলে ধরেন।

তাতে ওরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এটা ছিল ৫ই ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলনটা সেখানে তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তার ছয় দফাটা দিয়ে দেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তিনি ঢাকায় ফিরে তেঁজগাও বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মলন করে ছয় দফার মূল কথাগুলো প্রকাশ করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যপ্রণালী কমিটির সভা ডাকেন। এর আগে এটা কিন্তু তিনি সভায় পেশ করেননি। এটা তখন সিক্রেট রেখেছিলেন। সেখানে এই ছয় দফা পাশ হয় এবং এটাকে কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন কাউন্সিলে এটা পাস করা হয়। তারপর তিনি শুরু করেন সমগ্র বাংলাদেশে ছয় দফা নিয়ে প্রচার এবং জনসভা। যে যে জেলায় তখন সভা করেছেন, সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক ছয় দফার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা, মানসিকভাবে প্রস্তুত করা, এই জাতিকেই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য সম্পৃক্ত করেছিলেন। আবার সেখান থেকে ভেঙে এসে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করা- এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য এবং একটা কঠিন দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেটা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করে দিয়ে যান।

কাজেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছয় দফা অর্থাৎ একেকটা ধাপ পার হয়ে কিন্তু আমরা এই অর্জনটা করতে পেরেছি। এটার উপর ভিত্তি করেই কিন্তু আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের বিজয় অর্জন। সেদিক থেকে ছয় দফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।