এটিএমের শেষ ইচ্ছে পূরণ করলো পরিবার

16
এটিএম শামসুজ্জামান-ফাইল ছবি

দ্রোহ বিনোদন ডেস্ক

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের ইচ্ছা মতই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার বাদ জোহর নারিন্দার পীর সাহেব বাড়ি মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াত অভিনেতার শেষ ইচ্ছে পূরণ করেই সম্পন্ন হলো জানাজা। নারিন্দার পীর সাহেব জানাজার ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম তার পরিবার কে জানিয়েছিলেন, নারিন্দার পীর সাহেব যেন তার গোসল ও জানাজা পড়ান। তার কথা রেখেই সম্পন্ন করা হয় জানাজা ও দাফন।

প্রথম জানাজা শেষে সূত্রাপুরে কমিউনিটি সেন্টারে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বরেণ্য অভিনেতার মরদেহ রাখা হয়। এরপর সূত্রাপুর জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে ছেলের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। গত বুধবার সকালে তাকে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. আতাউর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় এ অভিনেতা।

তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে শুক্রবার তাকে বাসায় নেয়া হয়। বাসায় ফেরার একদিনের মাথায় চিরবিদায় নিলেন তিনি।

আবু তাহের মোহাম্মাদ (এটিএম) শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।

অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক হয় ১৯৬৫ সালে। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন।

কিংবদন্তি এ অভিনেতা ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এরপর ১৯৯৯ সালে ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমায় কমেডিয়ান চরিত্রে, ২০০১ সালে ‘চুড়িওয়ালা’, ২০০৯ সালে ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য এবং ২০১৭ সালে ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন এই অভিনেতা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তিনি একুশে পদক পান।

Print Friendly, PDF & Email