খোকসায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী পেটানোর অভিযোগ

31
আহত বিকাস সরকার ইনসেডে হামলাকারী কাউন্সিলর হাসেম আলী

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা পৌর এলাকার ভাতা ভোগীদের হিসাব খোলার সময় সমাজ সেবার কর্মচারীর উপর হামলার ঘটনায় এক কাউন্সিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মূল ঘটনা আড়ার করতে উল্টো সমাজ সেবা কর্মচারীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন আহতের মা।

জানা গেছে, শনিবার সকালে খোকসা পৌরভবনে সবকটি ওয়ার্ডের ভাতা ভোগীদের মোবাইল ব্যাংকি এর হিসার খোলার কাজ চলছিল। এক পর্যায়ে বিধোবা ভাতা ভোগী কাজলি খাতুন ঘটনা স্থলে পরে যায়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পৌর সভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল হাসেম আলী। চেয়ার দিয়ে হামলা চালন সমাজ সেবার ইউনিয় পর্যায়ের মাঠ কর্মী বিকাশ সরকারের উপর। সমাজ সেবার কর্মচারীরা কর্মচারীরা আহত বিকাশকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতির্ করেন। সন্ধায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলর হাসেম আলীর বিরুদ্ধে খোকসা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আহত বিকাশ রাতে হাসপাতাল থেকে ছুটি নেন।

ধাক্কায় পরে যাওয়া বিধোবা ভাতা ভোগী নারীসহ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক নারী পুরুষ অভিযোগ করেন সমাজ সেবা কর্মচারী বিকাশের বিরুদ্ধে। ওই নারীর দাবি লাইনে দাঁড়ানো ভাতা ভোগীর শ্লীলতা হানির চেষ্টা করে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মচারী। এ ছাড়া সে ওই ওয়ার্ডর ভাতা ভোগীদের কার্ড দেওয়া ও বই নবায়ন করে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছে।

রবিবার সকালে হামলার শিকার বিকাশের সাথে কথা বলার জন্য তার বাড়ি শিমুলিয়া কুঠিপাড়া যাওয়া হয়। তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে সে ফরিদপুরে শ্বশুর বাড়ি গেছে বলে জানান তার মা আদিবাসী নেত্রী অনিতা রানী। সকালে ছেলের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও তিনি শুনছেন বিকালে, তাও এক নেতার মোবাইল ফোনে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলের (বিকাশ) সাথে তিনি হাসপাতালে ছিল। পরে চাপের কারণে ছেলে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে ফরিদপুরে শ্বশুর বাড়িতে চলে গেছে।

কাউন্সিল হাসেম আলীর সাথে মুঠোফোনে জোগাযোগ করা হরা হলে তিনি জানান, তার সামনে সমাজ সেবার ওই কর্মচারী একবারে ধাক্কা দিয়ে ৩/৪জন বিদ্ধাকে ফেলে দেয়। এ ঘটনা নিয়ে তার সাথে বিকাশের বাক-বিতান্ডা হয়। মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ দিকে ঘটনার পর দিন (রবিবার) সকালে কয়েকজন কাউন্সিলর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক জন ভাতা ভোগীরা পৌর ভবনে হাজির হন। কাউন্সিলর হামের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় তারাও পাল্টা মমলা করবে বলে জানান। এ সময় উপস্থিত লাইন থেকে পরে যাওয়া সেই ভাতা ভোগী নারী অভিযোগ করেন, সমাজ সেবা কর্মচারী তাকে শারীরীক ভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি পরে যান। বিষয়টি কাউন্সিলর হাসেম আলী দেখে প্রতিবাদ করা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মমলা দেওয়া হয়েছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেলিম জানান, নবনির্বাচিত কাউন্সিলের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় তারা ক্ষুদ্ধ। তারা বিষটি নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য বসছেন। তারাও পাল্টা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সমাজ সেবার কর্মচারীর উপর হামলার ঘটনায় শুধু কাউন্সিলকে আসামী করা হয়েছে। মামলার পর কাউন্সিলর হাসেম পালায় গেছে।

Print Friendly, PDF & Email