খোকসার উপকারাগারটি অযন্তে-অবহেলায় গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে

13
খোকসার উপকারাগারের প্রবেশ পথ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

আশির দশকে প্রায় ১২ দশমিক ২ একর জমির উপর চারিদিকে সুউচ্চ প্রাচীর দিয়ে নির্মাণ করা হয় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় উপ-কারাগার। কিন্তু নির্মাণের ৪০ বছর সময় অতিবাহিত হলেও কোন কয়েদির দেখা পাইনি কারাগারটি। দীর্ঘদিন অযন্ত-অবহেলায় পড়ে থাকা কারাগারটি বর্তমানে গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে কারাগারটি নিয়ন্ত্রন জেলা সমাজসেবা অফিসের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এটি এক প্রকার অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় উপ- কারাগারটির প্রবেশ মুখে কারারক্ষীর পরিবর্তে দুটি ছাগল পাহারা দিচ্ছে। মূল ফটকে প্রবেশ করতেই বাম দিকে চোখে পড়বে মহিলা কয়েদির ওয়ার্ড। একটু সামনে এগুলেই পুরুষ ওয়ার্ডে। তবে সেখানে কয়েদির পরিবর্তে দেখা মেলে গরু-ছাগলসহ গবাদি পশুর। পাশেই রয়েছে মুরগী পালনের ছোট একটি ঘর। সমাজসেবা অফিসের হাতে হস্তান্তর হওয়ার পরও কারাগারটি হাঁস, মুরগী, গরু-ছাগল পালনের খামার হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে কারাগারটিতে সমাজসেবা অফিসের একজন নাইট গার্ড কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেয়াল থেকে খসে খসে পড়ছে প্লাষ্টার। দরজা জানালা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। অফিস স্টাফদের তিন কক্ষ বিশিষ্ট কোয়ার্টারটি অকস্থা একই।

খোকসা উপকারাগার

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে সারা দেশের ১৭ টি জেলায় ২৩ টি উপ-কারাগার নির্মাণ করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। তন্মেধ্যে একটি ছিল কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার উপ-কারাগারটি। কারাগারটি বর্তমানে কুষ্টিয়া রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কস্থ খোকসা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই উপ কারাগারটিতে রয়েছে একটি প্রবেশ পথ, দুইটি কয়েদী রাখার হলরুম, দুইটি সাক্ষাৎকার কক্ষ, একটি স্টোর রুম, দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি অফিস রুম। তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি কোয়ার্টার। রয়েছে বেশ কয়েকটি টয়লেট। একসময় ছাত্রবাস ছিল।

স্থানীয় দিনমজুর মাসুদ শেখ বলেন, কারাগারটি বানানোর সময় আমি লেবারের কাজ করেছিলাম। কিন্তু আজও এটি কাজে লাগেনি। অযতœ-অবহেলায় বহু টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারাগারটি দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ- পরিচালক রোকসানা পারভীন বলেন, উপ-কারাগারটি নানা জটিলতায় আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে এটি প্রতীকি মূল্যে ভূমিমন্ত্রনালয় থেকে সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই সেখানে কিশোর শোধানাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তলার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেল সুপার তায়েফ উদ্দিন মিয়া বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে এই উপ-কারাগারটি কিশোর শোধানাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে রুপান্তর করার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেওয়া হয়েছে। কারগারটির সংরক্ষণসহ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর দাবি স্থানীয়দের।

Print Friendly, PDF & Email