ভেড়ামারায় শিশু নির্যাতনকারী মাদ্রাসা শিক্ষককে চাকুরি থেকে বরখাস্ত

10

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

মায়ের সাথে দেখা করতে যাওয়ার অপরাধে পাঁচ-ছয় বছরের মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মাদ্রাসার এক শিক্ষককে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুর ফজলুল উলুম কাউমিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, সোমবার শিশুটি তার মাকে দেখার জন্য বাড়িতে যায়। মায়ের সাথে দেখা করে মাদ্রাসায় ফিরে আসলে মায়ের সাথে দেখা করার অপরাধে শিক্ষক হাফেজ মো: আল আমিন শিশুটিকে চেলা কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে শিশুটির হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে ফোলা জখম হয়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা গ্রামের ফইজুল করিমের ছেলে।
বিষয়টি জানতে পেরে পরের দিন নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা মাদ্রাসায় ছুটে আসেন এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। প্রতিকার না মেলায় বুধবার সকালে শিশুটির মা ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকুরি থেকে অব্যহতি দিয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ জানান, ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুটির পিতা ৫-৬ বছর যাবৎ অপ্রকৃতস্থ। মা বড় আশা করে ছেলেকে ধর্ম শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন মাদ্রাসায়। মায়ের সাথে দেখা করার অপরাধে হুজুর নামধারী শিক্ষক আল আমিন তাকে চেলা কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মোঃ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সঞ্জয়, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজুসহ অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ আল আমিন কে আমার কার্যালয়ে ডেকে পাঠায়। নির্যাতিত শিশুটির মা অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্ষমা করে দেন এবং তার বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনকারী শিক্ষক হফেজ আল আমিনের কাছ থেকে ভবিষ্যত্বে সে এ ধরণের কর্মকান্ড করবে না এই মর্মে মুচলেকা নেয়া হয় এবং তৎক্ষনাৎ তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email