কুষ্টিয়ায় দুটি হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
19

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বন্ধুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যার দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এদিকে দৌলতপুওে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ হত্যার দায়ে স্বামী হোচেন আলীর (৫৩) যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নারায়নপুর দহকোলা গ্রামের মৃত আকসের মোল্লার ছেলে ইন্তাদুল হক (২৫) এবং একই গ্রামের জালু মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (২৫)।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুর – কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলাকারী কাউন্সিলর কারাগারে

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী পৃথক দুটি রায়ের তিন আসামির সাজাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে দৌলতপুর উপজেলার নারায়নপুর দহকোলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ফিরোজের (২৫) বাড়িতে যায় আসামি ইন্তাদুল হক ও রুহুল আমিন। আসামিরা তাদের নাম্বার প্লেট বিহীন লাল রঙের হিরো হোন্ডা সিডি ডিলাক্স মডেলের গাড়িতে করে ফিরোজকে বেড়ানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওইদিন রাত ১১ টার দিকে একটি মাইক্রোতে করে ফিরোজের লাশ তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা দৌলতপুর উপজেলার নারায়নপুর দহকোলা গ্রামের আব্দুর রহিম বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে একই তরুনীর সাথে দ্বিমুখী প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিরোজকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আদালত এ মামলায় ৯ জন সাীর স্যা প্রমাণ শেষে ৫ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ধার্য তারিখে রবিবার আদালতের বিচারক মামলার আসামিদের শাস্তির এ আদেশ দেন।

অপর মামলায় ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে দৌলতপুর উপজেলার দীঘলকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হোচেন আলী তার স্ত্রী মরজিনা খাতুনকে (৩৭) গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই উপজেলার শেরপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে মারজেল মন্ডল বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় বোনের স্বামী হোচেন আলীকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল দৌলতপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজম পারিবাবিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী হোচেন আলীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।