খোকসায় শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ফল উৎসব উৎযাপিত

15
শিশুদের আনা ফলের প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক দিনের মৌসূমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার শোমসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগ ও ব্যস্থাপনায় স্কুলে এই ব্যতিক্রমি উৎসবের আয়োজন করে। তারা নিজ নিজ বাড়ি থেকে প্রায় এক থেকে দেড় মন আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, কামরাঙা, করমচা, আনারস, কলাসহ প্রায় ১২ রকম ফল নিয়ে আসে।

শিশুদের আনা বাহারী সব ফলের ভিড়ে লিচু অভাব পুরন করেন শিশুদের আয়োজনের অন্যতম উদ্যোগতা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বাজার থেকে প্রত্যেক শিশুর জন্য একটি করে লিচু কিনে আনেন।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় লম্বা সারিতে টেবিল দিয়ে এ সব ফলের প্রদশনীয় দেয়া হয়। মৌসূমী ফলের পুষ্টিগুন সম্পর্কে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এ সেমিনারে আলোচনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও পুষ্টি বিজ্ঞানের সাবেক ছাত্রী শিক্ষিকা আমিনা সুলতানা। মৌসূমী ফলের গুনাগুন সম্পর্কে নিজেদের জানা নানা তথ্য দিয়ে আলোচনাকে প্রাণবন্ত করে তোলে শিশুরা। তারা নিজের আনা ফল কেঁটে সহপাঠিদের মধ্যে কলার পাতায় করে বিতরণ করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুরান মোল্লা বলেন, প্রথম বারের মত মৌসূমি ফল উৎসবের পুরো কৃতিত্বই শিশুদের। তারা নিজেরা এই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যদিয়ে শিশুরা মৌসূমী ফলের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এ অনুষ্ঠান শিশুদের মধ্যে ভাতৃত্ববোধের উন্মেষ ঘটাবে। উৎসব আয়োজনে সহযোগীতা কারী শিক্ষকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন – খোকসায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন

তিনি জানান, মৌসূমি ফলের পুষ্টিগুন সর্ম্পকে যে আলোচনা হয়েছে তার উপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ লিখতে দেওয়া হয়েছে। রবি ও সোমবার এ প্রবন্ধ জমা নেওয়া হবে। তা যাচাই বছাই করে প্রতিটি শ্রেণিতে তিন জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশ থেকে অনেক পিঠা-পুলি হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিশুরা অনেক পিঠার নাম ভুলে যাচ্ছে। বা চেনে না। তাই ছোট পরিষরে হলেও আগামী বছর জানুয়ারিতে বিদ্যালয়ে এক দিনের পিঠা উৎসব করবেন।

Print Friendly, PDF & Email