মাদকের লাগাম টানতে সামাজিক আন্দোলন জরুরী

10

দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে শুভবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল সবার যূথবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাগাতার অভিযানের মুখেও থেমে নেই মাদক বাণিজ্য। কিছুদিন আগে মাদকের লাগাম টানতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ নামে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শুধু ধরপাকড় নয়, একদম গ্রাম পর্যায়ে মাদকের চাহিদা হ্রাস ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের কাজ করা হবে। এ কাজে সম্পৃক্ত থাকবে মসজিদের ইমাম, শিক ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ দিতে হয়। তবে বাস্তব েেত্র এর প্রয়োগ দেখছি না। প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’। এ দিবস পালনের মধ্যে যেন সব সীমাবদ্ধ। মাঝেমধ্যে দেখা যায় বিভিন্ন অভিযান। এটাকে বড় সফলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডিএনসির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটি ২৫ হাজার ৬৫০টি অভিযানে ৬ হাজার মামলা দায়েরের পাশাপাশি ৬ হাজার ৫২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৪ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৯২০ কেজি গাঁজা, ৯ হাজার ১৬৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম ২ মাসে সব সংস্থা (ডিএনসি, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড) মিলে জব্দ করেছে ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৮ পিস ইয়াবা। গাঁজা, ইয়াবা ছাড়াও আইস-এলএসডিসহ আরো ভয়ংকর সব মাদক দেশে আসছে। বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন না হলেও টেকনাফ-বান্দরবানের দুর্গম সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন মাদক আসছে। ভারত থেকে ফেনসিডিলের চালান পাচার হয়ে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, এখন সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে কক্সবাজার এলাকা দিয়ে। এছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের চালান নিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। মাদক দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্যও মূর্তমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তৃতি। দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা।

আরো পড়ুন – সৃজনী বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অবৈধ গুলিসহ গ্রেফতার

মাদকের সংক্রমণ, মাদকের ব্যাধি ধীরে ধীরে আমাদের জাতিকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে ফেলার আগেই যদি আমরা একে প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে বর্তমান প্রজন্ম এবং দেশের ভবিষ্যৎ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দেশের বিরাটসংখ্যক তরুণশক্তি নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি, অথচ প্রতিনিয়ত মাদকের নেশায় ধ্বংস হচ্ছে তারুণ্য, জাতির ভবিষ্যৎ। প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতাই পারবে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলে এর বিস্তার ঠেকাতে। সর্বোপরি মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান এই মুহূর্তে জরুরি।

Print Friendly, PDF & Email