কুষ্টিয়ার সাংবাদিক রুবেল হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত যুবক আটক

0
15

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ইমরান শেখ ইমন (৩২) নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার বিকালে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম।

গ্রেফতারকৃত ইমরান শেখ ইমন শহরের কোর্টপাড়া এলাকার শামসুল আলম সামুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে জেলা ও জেলার বাইরে অস্ত্র, মাদক, চুরি ও মারামারির ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। এর আগেও ইমন আগ্নেয়াস্ত্র ও ফেনসিডিলসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়। ইমন কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক কমিটির নেতা ছিলেন। জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার গভীর সখ্যতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার খায়রুল আলম দাবি করেন, ইমন সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। এর আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কাজী সোহান ও খন্দকার আশিকুর রহমান জুয়েলও এই হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানান পুলিশ সুপার।

কি কারণে সাংবাদিক রুবেলকে হত্যা করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, মামলার তদন্ত এবং অন্য আসামিদের আটকের স্বার্থে আপাতত এর বেশি কিছু জানানো সম্ভব নয়। তবে সাংবাদিকতা করার কারণে রুবেল হত্যাকান্ডের শিকার হননি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার পুলিশের সংশ্লিষ্ট অফিসার ও ফোর্সসহ ইলেকট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই শুক্রবার এ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত হামিদ মোল্লার ছেলে কাজী সোহান শরিফ (৪০) ও একই এলাকার মৃত খন্দকার হারুন উর রশিদের ছেলে খন্দকার আশিকুর রহমান জুয়েলকে (৩৫) র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই রবিবার রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক রুবেল কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটসংলগ্ন নিজ পত্রিকা অফিসে কাজ করছিলেন। এ সময় মোবাইলে একটি কল পেয়ে তিনি অফিস থেকে দ্রæত বের হয়ে এনএস রোডের সিঙ্গার মোড়ের দিকে যান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ব্যাপারে সাংবাদিক রুবেলের ছোট ভাই মাহাবুব ৩ জুলাই রাতেই কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার জিডি নম্বর- ২০৩।

এ ঘটনার চার দিন পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নির্মাণাধীন যদুবয়রা সংযোগ সেতুর শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর নিচ থেকে হাসিবুর রহমান রুবেলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা নৌ-পুলিশ। সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল কুষ্টিয়া জেলা রিপোর্টার্স কাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কুষ্টিয়ার খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।

আরো পড়ুন – ঝিনাইদহে ধান বোঝাই ট্রাক থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার

এ ঘটনায় পরের দিন ৮ জুলাই নিহত হাসিবুর রহমান রুবেলের চাচা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১২। সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এ বøকের হাবিবুর রহমানে ছেলে। রুবেল সাংবাদিকতার পাশাপাশি কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যালিটি মার্কেটে আল মদিনা ভান্ডার নামে পৈত্রিক কাঁচামালের আড়ৎ (পাইকারি) ব্যবসা করতেন। এছাড়াও তিনি ঠিকাদারিও করতেন।