কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
19
স্ত্রী হত্যার দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত স্বামী।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুই সন্তানের মা স্বাস্থ্য কর্মী স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ (৪২) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মিরপুর উপজেলার শামুখিয়া গ্রামের হান্নান ওরফে সন্টু কবিরাজের ছেলে। একই সাথে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জজ কোটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিরপুর উপজেলার পশ্চিম চুনিয়াপাড়া গ্রামে বাহারুল ইসলামের মেয়ে ডলি খাতুনের সাথে ১৪ বছর আগে পারিবারিকভাব বিয়ে হয় একই উপজেলার শামুখিয়া গ্রামের হান্নান ওরফে সন্টু কবিরাজের ছেলে আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজের।

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডলির সাথে কামালের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এর মধ্যেই ডলি মিরপুর থানার তালবাড়ীয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিসে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকুরী পান। চাকুরি পাওয়ার পর থেকে ডলি খাতুনের উপর তার স্বামী কামাল নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে আসাদুজ্জামান কামালের সাথে তার স্ত্রী ডলির কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে কামাল তার স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে।

আরো পড়ুন – ঝিনাইদহে সাপের কাপড়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

নিহত ডলির বাবা বাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে মিরপুর থানায় ডলির স্বামী আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ, তার পিতা সন্টু কবিরাজ এবং মাতা আমেনা খাতুনকে আসামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারের পর স্ত্রী ডলিকে গলা টিপে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন আসাদুজ্জামান কামাল কবিরাজ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসাদুজ্জামান কামালকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালে ২৬ জুন মামলার চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবু বক্কার। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।