ঝিনাইদহে স্কুলশিক হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ

0
18
শিক্ষক হত্যা মামলায় সাজা প্রাপ্তরা।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্কুলশিক হত্যা মামলায় একই পরিবারের তিন আসামিকে ফাঁসি ও অপর একজনকে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজিমুদ্দৌলা এ আদেশ দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন – শৈলকুপা উপজেলার শিতলী গ্রামের রান্নু খাঁন, একই পরিবারের জামাল খান ও কানু খাঁন। মামলায় আসামি শামছুর রহমান খাঁনকে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর তিন আসামী চান্নু খাঁন, জাফন খাঁন ও সাদী খাঁনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার শিতলীগ্র্রামের শারমিন নাহারের সঙ্গে সুপারি গাছের মালিকানা নিয়ে রান্নু খানের বিরোধ তৈরি হয়। এ জরে ধরে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা শারমিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার স্বামী রিপন আলী খাঁনকে মারধর শুরু করেন। সেসময় তাদের চাচা আলাউদ্দিন খান তাদের রা করতে গেলে তাকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে যান আসামিরা। এসময় প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে চিকিৎসকরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন – খোকসায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা স্কুল ছাত্র আহত

ঢাকা নেওয়ার পথে আলাউদ্দীন মারা যান। এ ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী শিউলী খাতুন বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। সেই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদন্ড ও একজনকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেন আদালত। মামলার বাকি তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নিহতের ছেলে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ খাঁন বলেন, আমাদের চোখের সামনেই আমার বাবাকে ওই সাতজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। রায়ে আমরা খুশি। তবে মামলার তিন আসামিকে খালাস দেওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছি। তাদের শান্তির জন্য পুনরায় উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

মামলার রাষ্ট্রপরে আইনজীবী ইসমাইল হোসেন বাদশা বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। তবে আদালতের কাছে দ্রæত রায় কার্যকরের আশা করছি।