কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

0
27
দুদকের অভিযানে আটক দালাল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তিন দালালকে আটক করেছে অভিযানিক দল। পরে আটক ওই তিন দালালকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডসহ অর্থদন্ড দেয়া হয়।

বুধবার দুপুরের দিকে কয়েক ঘন্টা ব্যাপী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিল কমল পালের নেতৃত্বে দুদক এ অভিযান পরিচালনা করে।

দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার চৌড়হাস আদর্শপাড়া সলক আলীর ছেলে রিপন (২৭), চৌড়হাস এলাকার ছরোয়ার হোসেনের ছেলে মহিবুল (৪০) এবং সাতীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার আবুল কাসেমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪০)।

এর মধ্যে মহিবুল এবং দেলোয়ারকে তিনমাসের কারাদন্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর দালাল রিপনকে এক মাসের কারাদন্ডসহ ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দবির উদ্দিন। অভিযানের সময় পাসপোর্ট অফিস থেকে নগদ এক ল ৩৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়াও অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ ফাইলপত্র তল্লাসী এবং সেগুলো পর্যালোচনা করেন দুদকের এক্সপার্ট টিম।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দবির উদ্দিন বলেন, পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ দালালের মাধ্যমে হয়রাণীর শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প থেকে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিন দালালকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কুষ্টিয়ার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিল কমল পাল বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা বিভিন্ন ভাবে ভোগান্তীর স্বীকার হচ্ছে এমন অভিযোগেই মুলত এখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হাতে নাতে তিন দালালকে আটক করা হয়েছে। এখান থেকে বেশ কিছু নগদ টাকা উদ্ধার এবং কিছু কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে উর্ধতন কর্তৃপরে কাছে একটি রিপোর্ট পাঠানো হবে । পরে সেখান থেকে পাওয়া নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদপে গ্রহণ করা হবে।

অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে কিছু বহিরাগত লোক ঢুকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এর সাথে অফিসের কেউ জড়িত নন। যারা অপরাধী তাদের বিচার হওয়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।