কুমারখালীর তিন মাদ্রাসা শিক্ষক সহ ৮ জন র‌্যাবের হাতে আটক

0
17

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামে এসবিএসএল নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী খুলে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া সেই তিন মাদ্রাসা শিকসহ আট প্রতারককে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিঃ নামের মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানীর চেয়ারম্যান ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার চর আউশিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৯), কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর একই জেলার মহেশপুর পদ্মপুকুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মহসিন আলী (৩১), কোম্পানীর ফিন্যান্স ডিরেক্টর কুমারখালী উপজেলার গোবরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৮), কোম্পানীর কর্মী কুমারখালী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের জলিল বিশ্বাসের ছেলে হাসান আলী (২৮), মহেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৩), ওয়াশি গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মোস্তফা রাশেদ পান্না (৪৭), বাঁশ গ্রামের আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আইয়ুব আলী (২৮), এবং বহল বাড়িয়া এলাকার আলতাফ শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮)।

শনিবার বেলা ১১ টায় র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ইউনিটের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইলিয়াস খান সংবাদ সম্মেলন করে ৮ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই প্রতারক চক্রটি কুষ্টিয়া জেলায় সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিঃ নামের একটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী খুলে গ্রাহকদেরকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যায়। কোম্পানীটির প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় ৩শ পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া ছাড়াও উক্ত কোম্পানী ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, রাজশাহী জেলা পর্যন্ত প্রতারণার জাল বিস্তার করে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে কোম্পানীর নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল এপ্লিক্যাশন তৈরি করে গ্রাহকদেরকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে গ্রাহকদের ১২শ টাকা দিয়ে কোম্পানীর আইডি খুলতে বলা হতো। প্রতি আইডি থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা ও আইডি বাবদ প্রদানকৃত ১২শ টাকার সমমূল্যের পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। শুরুর দিকে কিছু গ্রাহক টাকা ও পণ্য পাওয়ার কারণে অনেকেই আইডি খুলতে উৎসাহিত হয়েছিল। এক সময় গ্রাহকদের লভ্যাংশের টাকা না দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় প্রতারক চক্রটি। লগ্নিকৃত টাকা হারিয়ে শত শত গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়ে।

চক্রটির প্রারণার বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক গত ২৬ আগস্ট কোম্পানীর চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় দন্ডবিধির ৮০৬/২০/৩২৩/৩০৭/৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৩৫।

আরো পড়ুন – ভেড়ামারায় রেস্টুরেন্টে ঢুকে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা

সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প র‌্যাব-১২’র একটি আভিযানিক দল র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় শুক্রবার (২৬ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১১ টার সময় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে উক্ত এমএলএম কোম্পানীর প্রতারক চক্রের ০৫ জন সদস্য এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে উক্ত কোম্পানীর আরও তিনজনকে ঝিনাইদহ জেলা ও ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। উক্ত কোম্পানীর বিরুদ্ধে জেলার মিরপুর ও কুমারখালী থানায় ২টি মামলা রয়েছে, যার মামলা নং-২০, তারিখঃ ১৩ জুন ২০২২, মিরপুর থানা এবং মামলা নং-৩৫, তারিখঃ ২৬ আগস্ট ২০২২।

উল্লেখ্য গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তিন মাদ্রাসা শিকসহ পাঁচজনকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী দুটি পরিবার কুমারখালী থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি করেন।