কুষ্টিয়ায় শোক সভায় আ’লীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষ

0
19
প্রতিকী ছবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নে শোক সভা চলাকালে আওওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার বিকালে গোস্বামী দুর্গাপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভায় এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। পুলিশ ও তার সামনেই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আগষ্ট মাস উপলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আয়োজনে পর্যায়ক্রমে শোক সভা চলে আসছে। রবিবার ে গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নে শোক সভার নির্ধারিত দিন ছিল।

জানা গেছে, গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনয়িন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শংকরদিয়া বাজারের ওপর শোকসভার আয়োজন করা হয়। সভায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় যোগ দেন। তার সাথে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শোকসভায় শুরু হওয়ার পর গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লাল্টু রহমান তার অনুগত নেতা-কর্মি নিয়ে মিছিল নিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দিতে আসেন।

লাল্টুর সাথে আসা লোকজনের সাথে দেশীয় হাতকুড়ালসহ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ছিল। শোকসভায় আসা লোকজনের জন্য রান্না করা খাবার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক দবির উদ্দিনের লোকজনের ওপর হঠাৎ হামলা চালায় তারা। এ সময় দবির উদ্দিনের লোকজনও লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লাল্টুর লোকজনকে প্রতিরোধ করলে দুই পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশের সামনেই দুপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আওয়ামী লীগ নেতারা বারবার থামানোর চেষ্টা করলেও নেতা-কর্মিরা একে অন্যের ওপর হামলা করতে থাকে। ভাংচুর করা হয় বসার চেয়ার। সংঘর্ষ চলাকালে শোকসভায় আসা লোকজন ভয়ে পালিয়ে যান। প্রায় ২০মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পরে কমপে ২০ জনের বেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ঝেন্টুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন জানান, বিকালে অতিথিরা আসার পর শোক সভা শুরু হয়। আমি দুই হাজার মানুষের জন্য খাবার রান্না করি। বর্তমান চেয়ারম্যান লাল্টুর রহমান শতাধিক লোকজন নিয়ে মিছিল নিয়ে আসেন। তাদের অনেকের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিলো। আমরা আগে থেকে বুঝতে পারিনি। তারা এসেই আমার সমর্থক ও সাধারণ নেতা-কর্মির ওপর হামলা করে। কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। আমার কয়েকজন কর্মির অবস্থা আশংকাজনক।

হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা লাল্টু রহমান দাবি করেন তাঁর লোকজনের ওপর দবিরের লোকজন হামলা চালিয়েছে। এতে ৫ থেকে ৬জন আহত হয়েছেন। আমার তিন ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। নেতাদের সামনেই হামলা করেছে। আমরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি মাত্র।

আরো পড়ুন – কুমারীখালীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদন্ড

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, সভা শুরু হওয়ার পর স্থানীয় দুটি পরে মধ্যে ঝামেলা হয়। আমাদের হস্তেেপ পরিস্থিতি শান্ত হলে সভা শেষ করা হয়। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অফিসার ইনচার্জ আননুর যায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পরে মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।