কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্লীতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ

0
18

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক তরুণী শ্লীতাহানীর চেষ্টা, দফায় দফায় কুপ্রস্তাব ও হত্যার হুমকী প্রদানের অভিযোগ করেছেন।

ওই তরুণীর অভিযোগ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জে’র অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ফেক আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ওই নেত্রী কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের ওই কপিতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আরো যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন কুষ্টিয়া শহরের পিয়ারাতলা এলাকার সোহেল রানার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ফারদিন সৃষ্টি, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য একই এলাকার হৃদয় ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ট সহচর মোহাইমিনুল মিরাজ।

অভিযোগকারী ওই তরুণী জেলার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দার এবং কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক। তিনি চলতি বছর মিরপুর ছাতিয়ান আব্দুল বাছেত বিশ^াস ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অর্নাসে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর করা অভিযোগ পত্রে চাত্রী উল্লেখ করেন ১নং বিবাদী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ। আমি ১নং বিবাদীর সহিত দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করতাম এবং এক পর্যায়ে ১নং বিবাদী আমাকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাবসহ শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করায় আমি বিবাদীর কাছ থেকে প্রায় ১ মাস যাবৎ সরে আসি। আমি সরে আসার পর হইতে ১নং বিবাদী সহ অন্যান্য বিবাদীগণের সহিত আমার রাস্তা-ঘাটে দেখা হলে বিভিন্ন আজেবাজে কথাবার্তাসহ আমাকে ফলো করে। ১নং বিবাদীর নির্দেশে “আখি খাতুন” নামে একটি ফেক আইডি খুলে আমার ছবি এডিট করে আমার পার্সোনাল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ১০/০৮/২০২২ ইং তারিখ হইতে ভাইরাল করে এবং বিভিন্ন আজেবাজে কথাবার্তা পোষ্ট করে। পরবর্তীতে আমি গত ১১/৮/২০২২ ইং তারিখে বিবাদীদের এ ধরণের কার্যকলাপ করতে নিষেধ করলে বিবাদীগণ কোন নিষেধ না মেনে বরং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। ১নং বিবাদী আরও বলে যদি আমার প্রস্তাবে রাজী না হস তাহলে তোর অসুবিধা আছে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করিতেছে। গত ১৭/০৯/২০২২ ইং তারিখে ৩নং বিবাদীর সহিত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে দেখা হলে আমাকে বলে ছবি ভাইরালের কিছুই হয়নি আরও হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। উক্ত বিবাদীগণ যে কোন সময় আমার বড় ধরনের তি করতে পারে। উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত সহায়তা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রী আরো জানান, সোমবার দুপুরে তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে দেখা করে লিখিত অভিযোগ পত্রটি জমা দিয়ে এসেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ অভিযুক্তরা তার জীবনকে ইতোমধ্যেই দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমি তাদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হয়, এ ধরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এখন পর্যন্ত তাঁকে এ বিষয়ে কেউ কোন কিছু জানায়নি।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেনের অফিশিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি তদন্ত জহিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ নিয়ে এক তরুণী প্রথমে তাঁর কাছে আসেন এবং পরে অফিসার ইনচার্জ’র সাথে কথা বলেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় কোন বিষয় নিয়ে সম্ভাবত তাদের মধ্যে কোন ঝামেলা হয়ে থাকতে পারে।