পদ্মায় আটক রাসেল ভাইপার সাপটি গড়াই নদীতে অবমুক্ত

11

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মা নদীতে জেলেদের দোয়ারে ধরা পাড়া বিষধর রাসেল ভাইপার সাপটি গড়াই নদী অবমুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গড়াই নদীর সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর নীচে সাপটি অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্তকরণ করেন উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরিফুল ইসলাম।

সাপ অবমুক্ত করার এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম নিজে। তিনি বলেন, ‘ পদ্মা নদীতে মাছ ধরা দুয়ার জালে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার আটকা পড়ে। সকালে খবর পেয়ে বিলপ্তি প্রায় এই সাপটি জব্দ করা হয়। এবং গড়াই নদীর সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতু নীচে অবমুক্তকরণ করা হয়েছে।

এদিকে গড়াই নদে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপটি অবমুক্তকরণ করায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, নদী পাড়ে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে নদী ব্যবহার করেন। কিন্তু এখানে এত ভয়ংকর সাপটি ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। এ যেন সাগর থেকে এনে কুয়াতে ফেয়ায় ফেলা হলো।

জানা গেছে, উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের শামিম হোসেন প্রতিদিনই পদ্মায় দোয়াড় (জালের ফাঁদ) পেতে মাছ শিকার করেন। মঙ্গলবার সকালে জাল থেকে মাছ বের করতে যান। জালে মাছের পরিবর্তে সাপ দেখতে পান। প্রথমে তিনি অজগর সাপ মনে করে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে তাকে জানায় এটা বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ। পরে সাপটিকে বনবিভাগের লোকজন নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, রাসেল ভাইপার সাপটি খুবই বিষাক্ত। সাপটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। দেশে যেসব সাপ দেখা মেলে, তাদের মধ্যে রাসেল ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত। এ সাপের কামড়ে শরীরের দংশ অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্তজমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারি হয়ে যাওয়া, পাঘাত, কিডনির তিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন, পদ্মা থেকে এনে গড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে লাভ কি হলো। বরং গড়াই পদ্মার চেয়ে বেশি লোকালয়। এটা দায়সারা কাজ হয়েছে।

আরো পড়ুন – অবশেষে সেই এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র সংশোধন হয়েছে

জেলা বনবিভাগের বনকর্মকর্তা জি এম মোহাম্মদ কবির বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সাপটি ভারত থেকে পদ্মা নদী হয়ে এসেছে। জব্দ করার পর গড়াই নদে অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। নদী বেয়ে অন্যত্র চলে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email