খোকসা কালীবাড়িতে ১০৩ খন্ড প্রতিমা তৈরী করে দূর্গা পূজা

0
45

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় শারদীয় দূর্গা উৎসব উদযাপনে এক মন্দিরে ১০৩ খন্ড প্রতিমা তৈরী করে পূজার আয়োজন চুড়ান্ত পর্যায়ে চলছে। এটিই জেলা সর্ববৃহৎ ও ব্যয়বহুল পূজা। এখানে প্রতিমা প্রদশনীও চলবে ১০ দিন ধরে।

রাত পোহালেই শনিবার দেবীর অধিবাস ও আমন্ত্রনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। উৎসব প্রাণবন্ত করতে উপজেলার ৬৫ টি মন্ডপ ও মন্দিরে প্রতিমা নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মন্ডপ ও মন্দির সাজসজ্জা ও আলোক সজ্জার কাজ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগ ও পাবলিক গ্যাদারিং বিবেচনায় উপজেলার ৮টি মন্দির ঝুকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এ সব মন্ডপ ও মন্দিরে যথেষ্ট সংখ্যায় আনছার-ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিবি সদস্যরা টহলে থাকছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সামাজিক সম্প্রীতি সভা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির পক্ষ থেকে মন্দির কমিটির সভপতি-সম্পাদকদের সাথে আইন শৃংখলা বিষয়ক সভ করা হয়েছে।

এ বছর খোকসা কালীবাড়ি মন্দিরে রামায়ন ও মহাভারতের নাম ভুমিকায় থাকা অবতারদের ১০৩ টি প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। এ বারই এতো বড় পরিষরে এই মন্দিরের পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ সব প্রতিমার পূর্জাচনা ও প্রদশনী চলবে ১০ দিন ধরে। প্রায় ২ মাস ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা গুলো তৈরী করেছেন স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী সুকুমার বিশ্বাস ও সহযোগীরা।

খোকসা কালীবাড়ির পূজা উৎসব ঘিরে বরাবরের মত সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষনীয় হয়ে উঠেছে। ১০৩টি প্রতিমা তৈরীর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অনেক নারী পুরুষ দর্শনাথী কালীবাড়িতে জমায়েত হচ্ছেন। পূজা মন্দিরের বিশাল মাঠ জুড়ে প্রায় ৫১টি মন্ডপ নির্মান করা হয়েছে। ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাসের বিশেষ চরিত্র গুলোর মূর্তি নির্মান করে প্রদশনীর ব্যবস্থা থাকছে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। বসেছে গ্রামীন মেলা। কাঠ বাঁশ বেত লোহাসহ নানা ধরনের মনোহারি পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রায় শতাধিক দোকানি।

খোকসা কালীবাড়ি কেন্দ্রিয় দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, কালীবাড়ি তার সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। এই মন্দিরে নিরাপত্তার অভাব হয় না। প্রায় ৬ শ বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মানুষের দানেই এই প্রতিষ্ঠান চলছে। উৎসব উদযাপনে সব শ্রেণি পেশার মানুষেকে আমন্ত্রন জানান তিনি।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ঝুকিপূর্ন মন্দির গুলোতে দুই রকম থ্রেট হতে পারে। প্রথমত পাবলিক গ্যাদারিং ও দ্বিতীয় প্রতিমা। ৩২ টি মন্দিরে আনছার ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি একজন করে পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা থাকছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস বলেন, অবস্থানগত কারণে কিছু মন্দির স্পর্শকাতর বিবেচনায় নিয়ে সেখানে বারতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যথেষ্ট পরিমান আইন শৃক্সক্ষলা বাহিনীর সদস্য থাকবে।