খোকসায় বিদেশী ফল চাষীরা বিপাকে

0
30

মরক লেগেছে মাল্টার গাছে, ঝড়ে পরছে ফল

স্টাফ রিপোর্টার

সম্ভাবনাময় বিদেশী ফল মাল্টা চাষীদের বাগানের অধিকাংশ গাছ হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের প্রতিশেধক কাজে আসছে না। ফলে কৃষকরা লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ ও ফসল হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার খোকসার উপজেলার জাগলবা, ওসমানপুর, পাইকপাড়া, হিলালপুর ও গোপগ্রাম এলাকার কৃষকরা পরীক্ষা মূলক ভাবে বিদেশী ফল মাল্টা ও কমলা চাষ শুরু করেন। গতবছর পর্যন্ত এসব কৃষরা প্রচুর পরিমানে ফল উৎপাদন করতে সক্ষম হন। এক গাছ থেকে একাধিক বার ফল পাওয়া অন্যদিকে বাজারে চাহিদার সাথে বিক্রি হওয়ায় চাষীরা এসব ফল আবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে মাল্টা গাছে ব্যপক পরিমানে ছত্রাক আক্রমন করে। প্রথম অবস্থায় গাছ গুলো হলুদ হয়ে মারা যেতে থাকে।এ বছর মরক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্ষতির মুখে পরছেন চাষীরা। অন্যদিকে বিষ মুক্ত ফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোক্তারা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্বারস্ত হয়েছিলেন কৃষকরা। এক দুইবার কৃষি কর্মকর্তা ফলের বাগানে গিয়ে প্রতিশেধক দেওয়া পরামর্শ দিয়েছেন। অবশেষে কৃষি কর্মকর্তারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক কৃষক।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নে জাগলবার গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলামের বাগায়ে গিয়ে দেখা যায় তার অধিকাংশ গাছ হলুদ হয়ে গেছে। তিনি (আমিরুল ইসলাম) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে তার ফলের বাগান। এর মধ্যে গত দুই মৌসূম ৫০ শতাংশ জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। তার ১৮০টি গাছ রয়েছে। সাথী ফসল হিসেবে এই জমিতে ৪’শ টি হাইাব্রড জাতের পেয়ার আবাদ করেছে। গাছে প্রচুর মাল্টা ধরেছিল। ফলের বয়স এক মাস হলেই গাছ গুলো হলুদ হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রচুর পরিমানে ছোট ছোট মালটা ঝড়ে যায়। এই বাগানির সাথী ফসল পেয়ারার ফলন ভালো হওয়ায় তিনি আর্থিক ভাবে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন।

হিলালপুরের বিদেশী ফল চাষী মনিরুল ইসলাম দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে মাল্টা, কমলা, হাইব্রিড কুল, অসমী আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। তার বাগানে ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি গাছ থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। ইতোমধ্যে তার বাগানের কুলর গাছে ব্যপক হারে গুটি এসেছে। অন্যকৃষদের বাগানে গাছের মরকের খবর শুনে তিনিও দুশ্চিন্তায় আছেন।

কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, মাল্টা গাছ হলুদ হতে দেখে তিনিও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েছেলেন। তারা একদুই বার ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাতে কাজ হয়নি। এখন তিনি নিজের মত করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাতে কিছু ফল ও গাছ রক্ষা করতে পেরেছেন। এই ফল চাষকে তিনি লাভ জনক মনে করেন। এ বছর যে পরিমান ফল নস্ট হয়ে গেছে তা থাকলে এই বাগান থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা ফলবিক্রি করতে পারতেন।

কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, প্রথম বছরে ১৪৫টি মাল্টা গাছে ব্যপক ফল হয়েছে। সাথী ফসল পেয়ারাও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। বিদেশী ফল আবাদে আগে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষনের পরামর্শ দেন। তার যুক্তি, কৃষি কর্মকর্তাদের এই আবাদ সম্পর্কে একেবারেই অভিজ্ঞতা নাই। তাদের প্রশিক্ষন দেওয়া হলে তারা কৃষকের ভালো পরামর্শ দিতে পারবে।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা বলেন, এলাকায় মাল্টার চাষ হয়। এ বছর ফলোনও ভালো হয়েছে। রোগ-বালাই হয়েছে এ সম্পর্কে তার কাছে কোন তথ্য নেই। সঠিক পরিচর্যার অভাবে এ গাছে শুধু একটি পোকার আক্রমন হয়। তা আবার ওষুধ দিলে ভালো হয়ে যায়।

আরো পড়ুন – ঝিনাইদহে সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল আইনে মামলা

কৃষক আমিরুল ইসলাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই কৃষক কথা শোনে না। ক্ষেতের পরিচর্যা করে না। এ কারনে তার ফলও ভালো হচ্ছে না।