বিদেশে মুক্তিপণ আদায় চক্রের দুই সদস্য আটক

0
9

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বিদেশে লোক পাঠিয়ে সেখানে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে।

আটকদের মধ্যে রয়েছেন, দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী সরদারপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম হিমেল (৪০) ও একই উপজেলার মাদিয়া ত্রিমোহনী পাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পারভেজ রানা (২৭)।

শনিবার কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী সরদারপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম হিমেল (৪০), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার ইদ্রিস আলীর ছেলে বর্তমানে কম্বোডিয়া প্রবাসী শোভন হোসেন ও একই উপজেলার চৌধর মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস মোন্ডল (৪৭)সহ ৪-৫ জন দৌলতপুর উপজেলার সাদীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের বড় ছেলে ইশরাক শাহরিয়ার জয়কে কম্বোডিয়ায় মাসিক এক লক্ষ টাকা বেতনে কম্পিউটারের কাজের চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখায় এবং প্ররোচিত করে। আব্দুস সামাদ সরল বিশ^াসে রেজাউল করিম হিমেলকে তার ছেলেকে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর জন্য গত ২৩ মে নগদ ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। গত ২৪ জুন আব্দুস সামাদের বড় ছেলে ইশরাক শাহরিয়ার জয় কম্বোডিয়া চলে যান। সেখানে দুই মাস চাকুরি করার পর কম্বোডিয়া প্রবাসী শোভন হোসেন জয়কে জিম্মি করে ফেলে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং জয়ের পরিবারের কাছে ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জিম্মি অবস্থায় জয়কে ২-৩ দিন না খাইয়ে রাখা হয় এবং ইলেকট্রিক শকসহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ছেলের প্রাণ রক্ষার্থে আব্দুস সামাদ আত্মীয়-স্বজনের কাছে ধার দেনা করে বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে ৪ লক্ষ টাকা পরবর্তীতে আরো ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে মুক্তিপণ বাবদ আরো তিন লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত ৩ লক্ষ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে জয়ের কাছে থাকা ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আই ফোন-১৩ ও ৩৫ হাজার টাকার মূল্যের ওয়ান প্লাস ফোন, নগদ ৯০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে রেখে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করে দেয়া হয়। জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে জয় বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ান দূতাবাসের সহযোগিতায় দুই দেশের ইমিগ্রেশন ও টিকিটসহ প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরৎ আসতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় ইশরাক শাহারিয়ার জয়ের পিতা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় গত ১৯ অক্টোবর ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনের ৭/৮/৯/১০ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে ও দৌলতপুর থানা পুলিশের সহায়তায় তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী সরদারপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম হিমেল (৪০) ও ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার মাদিয়া ত্রিমোহনী পাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে পারভেজ রানাকে (২৭) রাজধানী ঢাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রতিনিয়ত আমাদের দেশে এ ধরণের প্রতারণা চলছে। দেশে ও প্রবাসে এ ধরণের মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানব পচারের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে মানব পাচারের সাথে জড়িত। তাদের মধ্যে আসামি রেজাউল করিম হিমেল ১০ বছর সিঙ্গাপুরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে দেশে ফিরে আসার পর সে মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদেরকেও গ্রেফতারের জন্য পুলিশী প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন – কুমারখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল আবু রাসেলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।