খোকসার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন কেন্দ্র করে হামলা পাল্টা হামলা

0
55

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাইয়ের উপর হামলার ঘটনা কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা মারমুখি অবস্থানে। ত্রিমুখী মহড়া-পাল্টা মহড়া ও হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারী গাড়ি ভাংচুর হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের হটুর মোড় এলাকায় শরিফুল ইসলাম (৪০) কে প্রতিপক্ষ নৌকার সমর্থক নেতা-কর্মীরা হামলা করে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত শরিফুল কমলাপুর গ্রামের দেলবর মন্ডলের ছেলে। সে জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরাজিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হবিবর রহমান হবির ছোট ভাই।

এ ঘটনার সূত্র ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আওয়ামী লীগের নৌকার মার্কা প্রতিকের প্রার্থী বাবুল আখতার ও ঘোড়া মার্কা প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী মোতাহার হোসেন খোকনের সমর্থক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন উত্তেজিত সমর্থকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। এ সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকরা একাধিক রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলা করে। হামলার সময় পুলিশের বহরে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারী গাড়িটি ইটের আঘাতে ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়। গাড়িটির পেছনের অংশের কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্থ্য আছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। হামলার আশঙ্কায় সন্ধ্যার পর উপজেলা সদরের গোটা বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি খোকসা ডিগ্রী কলেজের হিসাব সহকারী ও রাসায়নিক সারের ব্যবসায়ী। শনিবার সন্ধ্যার আগে তিনি বহরমপুরে ব্যবসায়ীক কাজে যাচ্ছিলেন। এ সময় জানিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজিদ, সন্তোষ ঘোষসহ ৫/৬ জন তার (শরিফুলের) উপর হামলা করে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হবিবর রহমান হবি জানান, গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজিদের সন্ত্রাসীরা তার লোকদের উপর একাধিক হামলা করেছে।

জানিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজিদ হামলার বিষয়টি অস্বিকার করেন।

ঘোড়া মার্কা প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী মোতাহার হোসেন খোকনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরিহৃত প্রতিপক্ষ নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা তার কর্মী আজাদ আলীর উপর হামলা করে। এর পর থেকে তারা একাধিক কর্মী ও সমর্থকের ওপর হামলা করাসহ তার প্রচার মাইক ভাংচুর পোষ্টার ছিড়ে ফেলেছে।

নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় তার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। হামলা কারীরা তার অফিস ও সমর্থকদের দোকান ভাংচুর করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যা থেকে দুই প্রার্থীকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। সাড়ে ৭ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইবের চলে গেলে পুলিশের দুটি গাড়িসহ তার গাড়ির বহর বাজার অতিক্রম করার সময় হামলায় আক্রান্ত হয়। গাড়ির পেছনের ডোরের কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তিনি মামলা করবেন।

আরো পড়ুন – কুমারখালীতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মামলাটি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। উত্তেজিত নেতা কর্মীরা দুই একটি দোকানের সাটারে কোপ দিয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানা মামলা করেনি।