পাবনার ব্যাংকার ও পরিবার পালিত ছেলের হাতে খুন হয়েছে

0
87
Pabna-Dro-7-p-06-compressed

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তার স্ত্রী ও পালিত কন্যাকে হত্যা করেছে তারই পালিত ছেলে মসজিদের ইমাম তানভীর ।

নিহত অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন নিঃসন্তান ছিলেন। একদিন বয়সী কন্যা শিশু সানজিদাকে দত্তক নিয়েছিলেন। এভাবেই চলছিলো সংসার। প্রায় বছর দেড় আগে বাসার পাশের মসজিদের ইমাম তানভীরকে ছেলে সন্তান হিসেবে আপন করে নেন নিহত দম্পতি। অবশেষে সেই সন্তানের হাতেই খুন হলেন তারা।

পাবনার দিলালপুরের ভাড়া বাসায় একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ১দিনের মধ্যে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের সংঙ্গে জড়িত আব্দুল জব্বারের পালিত ছেলে মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তানভীর নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। অর্থ সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভে নিঃসন্তান দম্পতি ও তাদের পালিত মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তানভীর।

রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেড় বছর আগে মসজিদের ইমাম তানভীরের ব্যবহারে সন্তুষ্ট হন নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা। নিঃসন্তান দম্পত্তি তাকেও ছেলে সন্তান হিসেবে আপন করে নেন। আব্দুল জব্বার ব্যাংক, পোস্ট অফিসে টাকা লেনদেনেও তানভীরকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন ।Pabna-Dro-7-p-9-compressed

পালিত সন্তান তানভীরের লোভের দৃষ্টি পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তার অর্থ সম্পদের উপর। লোভের বশে তানভীর হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করতে থাকে।

গত ২৯ মে চতুর তানভীর মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে হরিপুর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যায়। তবে ছুটি শেষ হবার আগেই ৩১ মে সে পাবনাতে ফিরে আসে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের বাড়িতে অবস্থান নেয়।

রাত ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুল জব্বার, তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদাকে (১২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। বাথরুমে থেকে রক্তমাখা কাপড়-চোপড় ধুয়ে গোসল করে। নগদ ২ লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি ও স্বর্ণের গহনা নিয়ে ফজরের আজানের সময় পালিয়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে ভাড়া বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন থেকেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম।

শনিবার রাতে তানভীরকে তার নওগাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই রাতের নৃশংস হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেয় তানভীর। এ হত্যাকান্ডে জড়িত তানভীরের শাস্তি নিশ্চিতে সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।