করোনা টেস্টের নামে স্বামী-স্ত্রীর প্রতারণা

0
32
coronavirus-Dro-24-p-3
সংগৃহিত ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

করোনার নমুনা পরীক্ষার কোন ল্যাব নেই তাদের, নেই নমুনা সংগ্রহের বৈধ অনুমতিপত্র। একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে স্বামী-স্ত্রী মিলে বাসায় বসে শুরু করেছেন অভিনব করোনা টেস্ট।

স্বামী-স্ত্রী মিলে অনলাইনে দুটি সাইট খুলে শুরু করেন করোনা টেস্টের অভিনব প্রতারণার ব্যবসা। তাদের টার্গেট ছিল করোনা উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের। করেনা টেস্টের নামে ভয়াবহ প্রতারণার কথা স্বিকার করে এমন সব তথ্য দিয়েছে তানজিনা পাটোয়ারী ও হুমায়ুন কবির নামের এক দম্পত্তি।

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর রশিদ বলেন, এই দম্পত্তিসহ আরও ৫-৬ জন মিলে একটি প্রতারণা চক্র তৈরী করে করোনা টেস্টের নামে বেশ কিছুদিন প্রতারণা চালিয়ে আসছে।

সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগী তার করোনার সার্টিফিকেট ও সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আচরণে সংশয় প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে অনুরোধ করেন। তদন্তে জানা গেছে, তারা করোনা উপসর্গ রোগীদের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরে নমুনা কোথাও ফেলে দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদলে হুবহু করোনার সার্টিফিকেট তৈরি করে ইচ্ছামতো ‘পজিটিভ-নেগেটিভ’ বানিয়ে তা রোগীর ই-মেইলে পাঠাতেন। এরই মধ্যে অন্তত ৪২ জনকে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দেওয়ার তথ্য হুমায়ুন কবির ও তানজিনা পাটোয়ারীর ই-মেইল যাচাই করে পাওয়া গেছে। তারা রিপোর্ট তৈরী করতে জনপ্রতি পাঁচ-আট হাজার টাকা নিতেন।

তিনি আরও বলেন, করোনার সনদ নিয়ে এমন প্রতারণা সত্যি অবিশ্বাস্য। অনলাইনে দুটি সাইট খুলে সেখানে হটলাইন নম্বর দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন তারা। এরপর তাদের স্যাম্পল আনতে যেতেন। তানজিনা পাটোয়ারী পেশায় একজন নার্স। তার স্বামী হুমায়ুন কবির গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তারা এক সময় জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা প্রজেক্টে চাকরি করতেন।। ১২ এপ্রিল তারা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে নিজেরা অনলাইনে ‘বুকিং বিডি’ ও ‘হেলথ কেয়ার’ নামে দুটি সাইট খোলেন। এরপর ওই সাইট থেকে অনেককে প্রলুব্ধ করে নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আশকোনার বাসায় অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। তাদের বাসায় আটটি পিপিই, নমুনা সংগ্রহের ৫০টি স্টিক ও অনেক হ্যান্ড গ্লাভস পাওয়া যায়। একটি কম্পিউটারও জব্দ করা হয়। সেখানে ৪২ জনকে ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়ার তথ্য মিলেছে। সর্বশেষ সোমবারও পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন স্বামী-স্ত্রী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মূলত অর্থের লোভেই তারা এ ধরনের প্রতারণায় জড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হলেন ডাক্তারসহ আরও ৭ জন