পদ্মার ভাঙনের মুখে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িসহ কয়েকটি গ্রাম

0
18
distroy river

কুমারখালী প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে রবী ঠাকুরের কুঠিবাড়িসহ কুমারখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম।

রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নামে প্রায় দুইশো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছিল চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ। কিন্তু লাভ হয়নি তেমন কিছু, কুঠিবাড়ী এখনো রয়েছে ভাঙ্গনের ঝুঁকিতেই।

distroy river 2

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারনে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ ফাঁকা রেখেই নির্মান করা হয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির সংঙ্গে সংঙ্গে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কোমরকান্দি এলাকা। দেখা গেছে এলাকার যে অংশ ফাঁকা রেখে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মান করা হয়েছে, সেই ফাঁকা স্থানেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন পার করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন জেলেদের বৈচিত্রময় জীবন

কোমরকান্দি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা তজিমদ্দিন (৮০) বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে এই জীবনে বেশ কয়েকবার বসতবাড়ি স্থানান্তর করেছি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসে নদী ভাঙ্গন নিয়ে খুবই আশঙ্কায় আছি।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আরিফুজ্জামান বলেন, শুধু বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শুষ্ক মৌসুমে এ বিষয়ে পরিকল্পনা সহ প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা।

তিনি আরও বলেন, এখানে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সুরক্ষায় বৃহৎ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কুঠিবাড়িটি অরক্ষিত রয়েই গেছে। আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ্উদ্দিন খান তারেক বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া না হলে, অচিরেই শিলাইদহের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিনের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান জানান, পদ্মার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন সহ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয়ের পাশাপাশি ঝুকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নিতে ইউনিয়ন পরিষদকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন-বুড়িগঙ্গাতে লঞ্চডুবি, ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার

এদিকে, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেই সাথে ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে ।
পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী।