পুলিশের হাতে সাবরিনার বেতনের স্লিপ

0
27
প্রতারণার আসামী ডাঃ সাবরিনা

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডাঃ সাবরিনা শারমিন হুসাইন করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার সাথে জড়িত জেকেজি হেলথকেয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার দাবি করলেও তিনি যে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে মাসে মাসে বেতন তুলেছেন সে ‘প্রমাণ’ পেয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এরকম তিনটি বেতনের স্লিপ তাদের হাতে রয়েছে। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গ করায় ইতোমধ্যে সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তাদের একবার মুখোমুখি করা হয়েছে, যাতে তদন্তে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।

জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, চিরাচরিত যা হয়, একে অপরকে দোষ দেওয়া, এখানেও তাই হয়েছে। তবে সেখান থেকে ক্লু নিয়ে কাজ করতে হবে এবং আমরা তাই করছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার- সংক্ষেপে জেকেজি। কিন্তু জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।

রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বাড়ির কেয়ারটেকারের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনার স্বামী। সে কারণে ‘সাবরিনা আরিফ চৌধুরী’ নামেই পরিচিত ছিলেন সরকারি এই চিকিৎসক।

জেকেজি নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে ডাঃ সাবরিনার কথাই বলা হত। তবে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জালিয়াতির ওই মামলায় সাবরিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা পরস্পরকে তুই-তুকারি করছিলেন, একজন অপরজনের জীবন ধ্বংসের জন্য দায়ী করছিলেন।

সাবরিনা তার স্বামীকে বলছিলেন, সবকিছু করে এখন আমাকে ফাঁসিয়েছিস। আরিফুল কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, তুমিতো চেয়ারম্যান, তোমার কি দায় নেই? আরিফুল এ সময় মোটামুটি শান্ত থাকলেও সাবরিনাকে অস্থির দেখাচ্ছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, জেকেজির অফিস থেকে জব্দ করা ডেস্কটপে দুই হাজারের বেশি কোভিড পরীক্ষার জাল রিপোর্ট পাওয়া গেছে।