করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ভার্চুয়াল পশু হাটের প্রয়োজন

14

করোনা মহামারীর মধ্যে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ জুলাই অথবা ১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসাতে নানা উদ্যোগ নিলেও আদৌ কি সম্ভব? এ প্রশ্ন সবার মনে দেখা দিয়েছে।

যেখানে কাঁচাবাজার কিংবা শপিংমলগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যাচ্ছে না, সেখানে পশুর হাটে সম্ভব হবে কি? এমন পরিস্থিতিতে পশু কেনাবেচা করলে মানুষের ভিড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়িয়ে দেওয়া আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল পশুর হাটই উত্তম বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারত। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে কয়েক বছর ধরে অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে, অনেক বড় খামারি ফেসবুকে লাইভওয়েটে কোরবানির পশু বিক্রি করতেন। তবে করোনার ঝুঁকির কারণে এবার এর চাহিদা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্পের (আইডিইএ) আগে ফুড ফর ন্যাশন নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এরই আলোকে আইডিইএ প্রজেক্টের স্টার্টআপ বাংলাদেশ ব্যানারে ডিজিটাল হাটের এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে প্রকল্পটি। এটি সরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হচ্ছে। আমরা মনে করি, যত বেশি অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তত কমবে।

এবার ঢাকার দুই সিটি মিলিয়ে পশুর হাট বসবে মোট ২৪টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হবে ১৪টি। সারাদেশের জেলা-উপজেলায়ও কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাস্তবে অনুমোদনের বাইরেও কোরবানিতে আরো অনেক হাট বসে। সব মিলিয়ে এই হাটের সংখ্যা সারাদেশে ৫ হাজারের কম হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটের একটা যোগ আছে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও অনেকটা নির্ভরশীল কোরবানির ওপরে। পরিকল্পনা করে করোনায় অর্থনীতি সচল রাখা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে হাটবাজার খুলে দিলে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিও বাঁচবে না, মানুষও বাঁচবে না। শুধু পশুর হাট নয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে পশু কোরবানিও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। কোরবানির হাট নিয়ে কতৃপক্ষের পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। এখনো সময় আছে, তাই পরিকল্পনা করে কোরবানির পশুর অনলাইন বাজার শক্তিশালী করতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোপূর্বে যে কার্যক্রমগুলো গৃহীত হয়েছে, তার কোনোটাই আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কোরবানির বাজারে বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করার আর কোনো সুযোগ নেই। তাই কোরবানির হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যত্রতত্র হাট বসানো যাবে না। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হাট বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক হাটের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া যায়।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

Print Friendly, PDF & Email