আগষ্টেও খুলছে না দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

0
30

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের চলমান পরিস্থিতির কারনে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে প্রায় পাঁচ মাসের মত। সরকারী সর্বশেষ ঘোষণাতে বলা হয় চলতি বছরের আগস্টের ৬ তারিখ অবধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে।

করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়বে কি না?

অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। এমনকি সেপ্টেম্বরের আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ঈদের আগেই ছুটি বাড়ানোর সরকারী ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈশ্বিক এ মহামারীর কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৮ মার্চ থেকে সরকারী আদেশে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংক্রমণের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর অবধি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ থাকতে পারে।

স্কুল ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব আকরাম-আল-হোসেন জানান, ছুটি অবশ্যই বাড়বে। দেশের বর্তমান যা অবস্থা, তাতে সেপ্টেম্বরের আগে খুলতেই পারব না। সবার আগে বাচ্চাদের নিরাপত্তাসহ, সুস্থ রাখা, তারপরে অন্য কিছু। সেপ্টেম্বরকে লক্ষ্য করে আমরা এগোচ্ছি। সেপ্টেম্বরের আগে স্কুল খুলব না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের এ সময় যদি শিক্ষপ্রতিষ্ঠান খুলেও দেওয়া হয়, তাতে এ পরিস্থিতিতে কে তার সন্তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাবে।

শিক্ষা মন্ত্রালয়ের এই কর্মকর্তা সরাসরি না বললেও আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। ছুটির বিষয়ে সম্ভবত ঈদের আগেই জানানো হবে।

করোনা সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চার মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী পড়েছে শিক্ষা ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ বিষযে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছে প্রায় পৌনে দুই কোটি শিক্ষার্থী। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আছে সোয়া কোটিরও কিছু বেশি।

করোনার কারনে আটকে রয়েছে এবারের এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষা। দেশের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারনে বেসরকারি স্কুল-কলেজসহ, কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলো পড়ছে আর্থিক সংকটে। বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আসবাবপত্র সহ শিশু স্কুলগুলো।

আরও দেখুন- অনলাইন ক্লাস-কুঁজো বুড়ির গল্প (২)

আরও দেখুন-অনলাইন ক্লাস- তালগাছ (১)

বিদ্যমান বাস্তবতায় সরকার স্কুলপর্যায়ে টিভির মাধ্যমে ক্লাস প্রচার করছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসে গুরুত্ব দিচ্ছে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সিলেবাস কাটছাঁট করে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয় কমিয়ে কম সময়ে তা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দেরি হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে আগামী বছরের দু-তিন মাস যুক্ত করারও চিন্তা করছে শিক্ষা প্রশাসন।