শিক্ষাবর্ষ নিয়ে তিন বিকল্প পরিকল্পনা

0
42
শিক্ষাবর্ষ নিয়ে তিন বিকল্প পরিকল্পনা

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই হবে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করতে তিন ধরনের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া গেলে কমপক্ষে ৭০ কার্যদিবস পাঠদান করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বিলম্ব হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৭০ দিনের পাশাপাশি ৫০ ও ৩০ দিন কার্যদিবস ধরে পৃথক তিন ধরনের সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে।

৭০ দিন সময় পেলে সিলেবাসের কোন অংশটুকু পড়ানো হবে, ৫০ দিন পেলে কতটুকু পড়ানো যেতে পারে এবং ৩০ দিন সময় পেলে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়গুলো পড়াতে হবে, তা নিয়েই এই তিন পরিকল্পনা। মাধ্যমিক পর্যায়ের দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা পাঠ্যবই বিশ্নেষণ করে এ তিন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করছেন।

শিক্ষার এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ (পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা) চূড়ান্ত করতে বুধবার এনসিটিবিতে দু’দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, কারিকুলাম ও সিলেবাসের নানা সংক্ষিপ্তরূপ তারা করছেন। পুরো বছরের পাঠ পরিকল্পনা এখন রি-ডিজাইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা কেবল বিকল্প নানা পাঠ পরিকল্পনা সাজিয়ে দেবেন। স্কুল খোলার পর এক মাস পেলে কী পড়ানো হবে, দুই মাস সময় পেলে কী পড়ানো হবে, তা নিয়েই এ পরিকল্পনা। তারা চাইছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করার কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশগুলো এই শিক্ষাবর্ষে পড়ানো সম্ভব হবে না, পরবর্তী শ্রেণিতে আগামী বছর সিলেবাসের সেই অংশটুকু অত্যাবশ্যকীয় পাঠ হিসেবে পড়ানো হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার কোনো ঘাটতি হবে না।

বুধবারের কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়িয়ে বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। বর্তমান সিলেবাসের যে অংশটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো রেখে বাকিগুলো বাদ দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হলে অটো পাসের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে।

আরও পড়ুন-দ্রোহের দেড়যুগের প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও ই-পেপার উদ্বোধন

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে সেটি এখনও অনিশ্চিত । তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এইচএসসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কমপক্ষে এক মাস সময় নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, প্রাথমিক স্তরে এখনই অটো পাস দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ডিসেম্বরের আগে স্কুল খোলা কিছুতেই সম্ভব না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে অটো পাস দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হবে।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পিইসি পরীক্ষা হবে। কিন্তু অক্টোবর-নভেম্বর মাসে স্কুল খোলা হলে নিজ নিজ স্কুলে এমসিকিউ ৫০ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ডিসেম্বরে স্কুল খোলা হলে প্রাথমিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে অটো পাস দেওয়ার কথা ভাববে।