অন্য ও নিজ

0
55
ডাঃ মুন্সী মুর্তজা আলী

ড. মুন্সী মুর্তজা আলী

মানুষ জন্মগতভাবে স্বার্থপর। প্রথমে সে নিজের স্বার্থটাই দেখবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে স্বার্থপরতারও একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করে স্বার্থপর হওয়া কিছু মানুষকে নিয়ে আজকের লিখা। এসব বেশী স্বার্থপর মানুষেরা নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষতিটাকে বড় করে দেখে। অথচ সেই পরিমান ক্ষতি অন্যের হলে মনে করে অন্যের সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। এই ধরনের স্বার্থপর মানুষ সুখে থেকেও শান্তি পায় না। বরং অন্যেরা সুখে থাকলে এদের চোখ জ্বলে। এরা মনে করে তারাই একমাত্র সুখে থাকবে। আর অন্যরা সুখে থাকুক বা না থাকুক, বাঁচুক বা মরুক- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। অন্যদের কষ্ট দেখলে এরা আবার আনন্দ পায়। এরা অন্যের উপকার করেনা বললেই চলে। তবে অন্যদের কাছ থেকে নিজেদের প্রয়োজনটা ইচ্ছেমত আদায় করে নেয়। নিজেদের বিপদে অন্যদের পা ধরতেও লজ্জা বোধ করেনা। আবার বিপদ কেটে গেলে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। অন্যের বিপদ জেনেও নিজেদের আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আর অন্যদের গুরুত্বহীন মনে করে। এরা অতিমাত্রায় সুবিধাবাদী ও আত্মকেন্দ্রিক। এদেরকে অসামাজিকও বলা চলে।

এসব মানুষদের ঘৃণা করলে তুমি নিজের কাছে নিজেই ছোট হয়ে যাবে। কারন মানুষকে ঘৃণা করা পাপ। তবে অপছন্দ করলেও তাকে বুঝতে দিও না। এসব মানুষের সাথে সম্পর্ক না রাখাই ভাল। অর্থাৎ দুরে থাকাটাই শ্রেয়।মজার ব্যাপার হলো, এদেরও পছন্দ করা মানুষ আছে। যারা এদের পছন্দ করে, তারাও তাদের মত একই চরিত্রের অধিকারী। আর যারা প্রকৃত ভাল মানুষ তারা খারাপ রেখে ভাল মানুষ খুঁজে নেয়।

বিষয়টা এরকম-

“ভালোয় আলো চেনে

খারাপ চেনে আঁধার”!

এসব মানুষদের উপকার করলেও কখনো মনে রাখে না। বরং উপকার পেয়েও উপকারীর দোষ খুঁজে বেড়ায়। খারাপ থেকে দূরে থাকা ভাল। তাই বলে জ্ঞানী লোক কি জেনে শুনে তাদের বিপদে এগিয়ে যাবে না? যদি এগিয়ে না যায়, তবে জ্ঞানী লোকের পাপ হবে। তাই জ্ঞানী লোকের উচিত তাদের বিপদে সাহায্য করা। তবে তাদের সাথে বেশী মেলামেশা না করে দুরত্ব বজায় রাখাই উত্তম।

অন্যরা লোভী হলে তুমি লোভী হইয়ো না। অন্যরা পাপী হলে তুমি তাদের পাপ মোচনের জন্য চেষ্টা করিও। কিন্তু অন্যদের পাপের ভাগী হইয়ো না। অন্যের হিসাব অন্যের কাছে। আর নিজের হিসাব নিজের কাছে। অন্যের হিসাব নিতে যেয়ে নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়া প্রকৃত মানুষের লক্ষ্য নয়।

শুরু করেছিলাম “অন্য ও নিজ” শিরোনাম দিয়ে। সেই কথায় ফিরে আসি। নিজের মাঝে অন্যকে আবিষ্কার করা এবং অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে কম স্বার্থপরতা প্রকাশ পায়। তাই আসুন আমরা কম স্বার্থপর হই। নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলী না দিয়ে অন্যের স্বার্থে মনোনিবেশ করি। নিজের স্বার্থে অন্যের ক্ষতি করে নয়। পারস্পারিক মত বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ চরিত্র বিনির্মান করি।

অধ্যাপক

লোক প্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।