সন্তান হত্যার বদলা নিলাম-মজিবর রহমান বয়াতি

0
22
নিহত হাসিনুর রহমন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সরকার দলীয় এমপি আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশার ফুপাতো ভাই হাসিনুর রহমানকে (৫২) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছেন মজিবর রহমান বয়াতি নামের এক বাবা। হত্যার পর তিনি পালিয়ে না গিয়ে পুলিশের হাতে স্বেচ্ছায় ধরা দিতে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

হত্যার পর স্থানীয় শত শত লোকের সামনে চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘সন্তান হত্যার বদলা নিলাম।’ কিন্তু পুলিশ বদলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছে- পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মজিবর রহমান বয়াতি এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের নিজ বাড়ির নিকটে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ সময় জব্বার নামে অন্য একজনকেও আহত হন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। হত্যার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজিবর রহমান বয়াতি বলেন তিনি একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১৯ সালের ঈদুল আজহার দিন বিকাল বেলায় পদ্মা নদীর চরের আবেদের ঘাট এলাকায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে মজিবর রহমান বয়াতির ছেলে স্থানীয় পিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আনোয়ার (১৫) কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে খুন হয়।

এ ঘটনায় নিহত আনোয়ারের বাবা মজিবর কয়েকজনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের কয়েক মাস পর একই বছর দৌলতপুর থানা পুলিশ স্কুলছাত্র আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন।

পুলিশের একটি সূত্র এবং স্থানীয়রা জানান, মামলার বাদী ও বিবাদী দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের হওয়ায় এমপির প্রতিনিধি হিসেবে হাসিনুর রহমান সমঝোতা করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। আপস-মীমাংসার জন্য কয়েক দফায় তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও করেন। সমঝোতার জন্য মজিবর রহমান বয়াতির উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন হাসিনুর। এ কারণে তার ওপর চরম ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন মজিবর।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিলেন মজিবর রহমান। সুযোগ বুঝে শনিবার সকালে মজিবর একাই হাসিনুরকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। হত্যাকান্ডের খবর পেয়েই ঢাকা থেকে এলাকায় ছুটে আসেন এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা। শুধু পূর্বশত্রুার কারণে নয় এই হত্যাকান্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, হাসিনুর রহমান সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমপির অবর্তমানে তার ব্যক্তিগত ও দলীয় কাজকর্ম হাসিনুর দেখভাল করতেন।

দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশিকান্ত জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা যতটুকু জানতে পেরেছেন তাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তদন্তের পরেই হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শনিবার রাত ১১টা অবধি এ হত্যাকান্ডেরর ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে- মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।