জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের নানা দিক

0
19

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

ইন্টারনেট ব্যবহার করেন আর গুগল সম্পর্কে জানেন না- এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। গুগল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওয়েবসাইট। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রত্যেকেই ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় হোক জীবনে অন্তত একবার হলেও গুগলে প্রবেশ করেছেন। কেননা এ মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। প্রযুক্তি-দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনটিতে এহেন কোনো বিষয় নেই, যেটি জানতে ঢু দেন না ব্যবহারকারীরা। চলতি মাসেই গুগলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২২তম বছরে পা দিতে চলেছে মার্কিন এ প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানিটি। আজকের আয়োজনে গুগল সম্পর্কে।

গুগলের যাত্রা

দু’জন কলেজ ছাত্র ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালে গুগল শুরু করেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে, যার মাধ্যমে অন্য ওয়েবপেজগুলোর একটি তুলনামূলক তালিকা করা যাবে। এর ভিত্তি হবে অন্য ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কতজন তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন। তাদের তত্ত্ব ছিল তখনকার কৌশলগুলোর চেয়ে নতুন কৌশলে কোনো একটি অনুসন্ধান ইঞ্জিন বানানো, যেটি ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে ফলাফল দেখায় তাহলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

নাম নির্ধারণ

পেজ এবং ব্রিন শুরুতে সার্চ ইঞ্জিনটির নাম রাখে ‘ব্যাকরাব’ কারণ এ ব্যবস্থায় সাইটের ব্যাকলিঙ্কগুলো যাচাই করা হতো ওই সাইট কত গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করার জন্য। পরবর্তী সময়ে তারা নাম পরির্বতন করে গুগল রাখে, যা আসলে ভুল বানানে লেখা ‘মড়ড়মড়ষ’ থেকে এসেছে। এটি একটি সংখ্যা যার অর্থ, ১-এর পিঠে ১০০টা শূন্য বসালে যা হয়- তাই। কেন এ নাম বেছে নিয়েছিলেন ল্যারি আর সের্গেই? তাদের ওয়েবসাইট যে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি-অনুসন্ধান করবে সেটিই এ নাম দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন তারা।

গুগল ডুডল

প্রথম গুগল ডুডল। অর্থাৎ গুগলের হোম পেজে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা দিনের স্মারক হিসেবে যে ছবি ব্যবহৃত হয়। তা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বার্নিং ম্যান নামের একটি উৎসব উদযাপনের জন্য। গুগলের প্রতিষ্ঠাতারা ভেবেছিলেন, এর মাধ্যমে তারা জানিয়ে দেবেন- কেন তারা অফিসে অনুপস্থিত।

সেরা ডুডল

গুগলের সবচেয়ে স্মরণীয় ডুডলগুলোর অন্যতম হচ্ছে চাঁদে জলের অনুসন্ধান এবং জন লেননের ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য। জন লেননের ডুডলটি আবার ছিল প্রথম ভিডিও ডুডল।

গুগলপ্লেক্স অফিস

গুগলের হেডকোয়ার্টার পরিচিত ‘গুগলপ্লেক্স’ নামে এবং এটি অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে। গুগলপ্লেক্সে টি-রেক্সজাতীয় ডাইনোসরের একটি বিশাল মূর্তি আছে, যার ওপর প্রায়ই অসংখ্য প্ল্যাস্টিকের তৈরি গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গ বসে থাকতে দেখা যায়। বলা হয়, এ ফ্ল্যামিঙ্গগুলো এক রকম বার্তা দেয় কর্মচারীদের- তারা যেন কোনোদিন গুগলকে বিলুপ্তের পথে না ঠেলে দেন। গুগল হচ্ছে প্রথম বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা যারা তাদের কর্মচারীদের বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করে। তা ছাড়া কর্মচারীরা তাদের পোষ্যদের সঙ্গে নিয়েও অফিসে আসতে পারেন।

জনপ্রিয় সার্চ

২০০১ সালে চালু করা হয় গুগল ইমেজ সার্চ, যার অনুপ্রেরণা ছিল ২০০০ সালের গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজের পরা সবুজ পোশাক। এটি গুগলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চে পরিণত হয়েছিল।

গুগলের মেইল

গুগলের ফ্রি ওয়েবমেইল সেবা জিমেইল, ২০০৪ সালে ১ এপ্রিল এটি শুরু করা হয়েছিল শুধু আমন্ত্রণনির্ভর বেটা প্রোগ্রাম হিসেবে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সালে জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা হয়। সেবাটি বেটা সংস্করণ থেকে ৭ জুলাই ২০০৯ সালে মূল প্রোগ্রামে আসে যখন এটির প্রায় ১৪৬ মিলিয়ন মাসিক ব্যবহারকারী ছিল। সেবাটি ছিল প্রথম অনলাইন ইমেইল সেবা, যার সঙ্গে ছিল ১ গিগাবাইট সংরক্ষণের জায়গা। গুগলের অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত জায়গা প্রদান করে, যা পরে ২০ গিগাবাইট থেকে ১৬ টেরাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত করা যায় জন্য প্রতি এক গিগাবাইটে ০.২৫ ডলার প্রতি বছর ফি দিতে হয়।

ইউটিউব

ইউটিউব গুগল পরিবারের সদস্য হয় ২০০৬ সালে। দেড়শ’ কোটি ডলারেরও বেশি দামে ইউটিউব কিনে নেয় গুগল। এখন ইউটিউবের মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ২০০ কোটি। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৪০০ ঘণ্টার ভিডিও।