অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে আদিম যুগের নির্যাতন, গর্ভের সন্তানের মৃত্যু

15
প্রতিকী ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ আদিম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ওই নারী অন্তঃসত্তা ছিলেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত নারীর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেলতৈল গ্রামে। আহত নির্যাতিত নারীর নাম বৃষ্টি আক্তার(২২)। তিনি পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভাটি চরনওপাড়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় সোমবার নান্দাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন বৃষ্টির চাচা শামসুল হক। পুলিশ বৃষ্টি আক্তারের স্বামী জুয়েল মিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বৃষ্টির চাচা শামসুল হক বলেন, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টি আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয় বেলতৈল গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে জুয়েল মিয়ার কাছে। বৃষ্টির সংসারের সুখের কথা ভেবে বিয়ের সময় লক্ষাধিক টাকার সোনার গহনা ও ব্যবসার জন্য জুয়েলকে আরও এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জুয়েল মিয়া যৌতুক হিসেবে আরও দেড়লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে যৌতুকের কারণে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন।

রবিবার সকালে বৃষ্টি আক্তার সংসারিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় জুয়েল বৃষ্টিকে ডেকে নিয়ে তার কাছে আবারো যৌতুকের টাকা দাবি করেন। পরে বৃষ্টি বাবার বাড়ি থেকে আর টাকা আনতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়।

এ সময় কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে জুয়েল তার হাতে থাকা একটি স্কু-ডাইভার নিয়ে বৃষ্টির ওপর হামলা চালায়। জুয়েল স্ক্রু-ডাইভার দিয়ে বৃষ্টির মুখমন্ডল ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। বাঁশের টুকরা দিয়েও আটমাসের অন্তঃস্বত্ত্বা বৃষ্টিকে বেদম মারধর শুরু করলে একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এসময় চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জুয়েল চলে যান। পরে বেলতৈল স্বামীর বাড়ি থেকে বৃষ্টির বাবার বাড়িতে খবর দেওয়া হলে তারা এসে বৃষ্টিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

শামসুল হক আরও জানান, বৃষ্টিকে প্রথমে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে সেখান থেকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায় বৃষ্টির গর্ভের সন্তান মারা গেছে। অস্ত্রোপচার করে মৃত সন্তান বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Print Friendly, PDF & Email