জন্মদিনে ডনের স্মৃতিতে সালমান শাহ

0
22
সালমান শাহ ও ডন

দ্রোহ বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই ছবির আকাশে ধূমকেতু হয়ে দেখা দিয়েছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯৩-এ শুরু এবং ’৯৬-এ শেষ। মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ার! এ তিন বছরেই বদলে দিয়েছেন ঢাকাই ছবির হিসাব-নিকাশ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিমান করে স্বেচ্ছায় জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। যদিও ভক্তদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়- খুন।

সালমানের মা নীলা চৌধুরীও এ মর্মে একটি মামলা ঠুকে রেখেছেন, যা এখনও বিচারাধীন। আত্মহত্যা বা খুন- যাই হোক না কেন, সালমানের মৃত্যুর জন্য দায়ী ও অভিযুক্ত হিসেবে ভক্তরা কাঠগড়ায় এখনও দাঁড় করিয়ে রেখেছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা, সবচেয়ে কাছের বন্ধু অভিনেতা ডন ও চিত্রনায়িকা শাবনূরসহ আরও কয়েকজনকে।

তার মূল নাম চৌধুরী শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম। মাত্র দু’দিন পরই এ অকাল প্রয়াত নায়কের জন্মদিন। জীবদ্দশায় এ নায়ক কীভাবে কাটাতেন দিনটি, কিংবা কেমন ছিল তার জন্মদিন- অনেকেই অনেকবার স্মৃতিচারণ করেছেন তা নিয়ে। তবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডনের সঙ্গে রয়েছে এ নায়কের মধুরতম অনেক স্মৃতি। ডন জানতেন অনেক কিছু।

ভক্তদের চোখে ডন যদিও সালমানের খুনি হিসেবেই অভিযুক্ত। কিন্তু তিনি তা কখনই মানেননি। বারবার বলেছেন, সালমান তার কাছে ছিল ভাইয়ের মতো। তবে সালমানের মৃত্যুর পর অনেক বছর তাকে নিয়ে তেমন কিছুই বলতে শোনা যায়নি ডনকে। গত কয়েকবছর ধরে কিছুটা বললেও এখনও বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারলেই যেন তার শান্তি!

তবুও নাছোড়বান্দার মতো তার কাছেই যেতে হয় অনেক কিছুর উত্তর পাওয়ার জন্য। সালমানের প্রিয় বন্ধু ছিল যে!

প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনটি কেমন কাটত- এ বিষয়েও বেশ কিছু স্মৃতি গণমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ডন। তিনি বলেছেন, ‘বন্ধুর জন্মদিনে বন্ধু নেই, সেখানে দুঃখের অন্ত থাকে না। সালমান এমন একজন বন্ধু ছিল, যাকে হারানোর পর জীবন কতটা শূন্য হয়েছে- তা শুধু আমি জানি। তারপরও তাকে নিয়ে কিছু কথা বলতে হয়। সে বেশি পছন্দ করত ড্রাইভিং। শুটিং শেষ করে আমরা দু’বন্ধু বেরিয়ে পড়তাম লং ড্রাইভে। তবে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য ছিল না। ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াতাম।

আমরা গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় যেতাম। সেখানের মিল্কশেক খুব পছন্দ ছিল সালমানের। এমনও দিন ছিল যেদিন যেতে দেরি হতো, সেদিন দোকানদার সারা রাত আমাদের জন্য অপেক্ষা করত।’ স্মৃতিচারণ করে ডন আরও বলেন, ‘উত্তরার একটি ফুটপাতের দোকানের চিতই পিঠা সালমানের খুব প্রিয় ছিল। একজন বয়স্ক নারী সেই পিঠা বানাতেন। সেখানে আমরা দু’জনই বিশেষ করে শীতের সময় প্রতিদিন যেতাম।

ওই নারীকে সালমান ‘নানি’ বলে ডাকতেন। কোনো কোনোদিন আমরা এক বসায় একেকজন ৯ থেকে ১০টি করে পিঠা খেতাম।’