খোকসার গৃহবধূ মিমকে স্বামীই হত্যা করেছে, আসামির সরল স্বীকার উক্তি

0
66

 

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ মিম খাতুন (২২) কে স্বামী সুমন হত্যা করে। পরে বাড়ির করিডোরের গ্রীলের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করার কথা স্বেচ্ছায় আদালতে শিকার উক্তি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শনিবার গভীর রাতে খোকসার জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের তাহেরপুরে শ্বশুর বাড়িতে কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ মিম খাতুন ওরফে পলি খুন হয়। গৃহবধূর স্বামীর নাম সুমন হোসেন। গৃহবধূ মিম খুনের ঘটনায় তার ভাই সুমন প্রামানিক বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রবিবার দুপুরে স্ত্রী হত্যাকারী সুমনকে থানা পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়। হত্যাকারী আটকের সময় তার ঘর থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে স্থানীয় সূত্র গুলো জানায়। ময়না তদন্ত শেষে নিহত গৃহবধূর বাবার বাড়িতে পাবিারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত কলেজ ছাত্রী খোকসা সরকারী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী ছিল।

থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘাতক স্বামী সুমন শনিবার রাতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সাথে অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফেরার পর মিম এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। দু’জনের মধ্যে বাক-বিতান্ডা হয়। এ সময় সুমন স্ত্রী মিমকে মারপিট করে। মিম সজ্ঞা হারিয়ে বিছার উপর পরে যায়। এ সময় ঘাতক স্বামী নিজে তাকে শ্বাষ রোধ করে হত্যা করে। পরে তার মৃতদেহ শোবার ঘরের করিডোরের গ্রীলের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে প্রতিবেশীদের জানানো হয় মিম আত্মহত্যা করেছে। মূলত পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে মিমকে খুন করা হয়েছে।

তবে ঘাতক স্বামীর পরিবার বলছে অন্য কথা, কলেজ ছাত্রী মিম প্রচন্ড জিদী ছিল। সামান্য কথাকাটি হলেও সে নিজের শরীর নিজেই ব্লেড দিয়ে কাটত। অনেকবার আত্মহত্যা করা হুমকীও দিয়েছিল। শনিবার গৃহবধূর বাবা মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে দেখতে আসেন। রাতে মিম তার বাবাকে বিদায় দিয়ে নিজের ঘরে স্ব^ামী সুমন হোসেনের সাথে ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে গৃহবধূর স্বামী পরিবারের লোকদের ডেকে স্ত্রীর গলায় ফাঁস নিয়েছে বলে জানায়। এক পর্যায়ে নিজেরাই গৃহবধূর মৃতদেহ টি শোবার ঘরের পাশের কোরিডোরের গ্রীল থেকে নামায়। তারা নিশ্চিত হয় গৃহবধূ মিম মারা গেছে। পরে রাতেই তারা নিহতের বাবার বাড়ি মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান। নিহত গৃহবধূ উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।

গৃহবধূ মিম হত্যা মামলার বাদী পলাশ জানান, তিন বছর আগে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে মিম এর সাথে সুমনের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। তারা গোপনে বিয়ে করে। দুই পরিবারের কেউই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। এক পর্যায়ে গত বছর পরিবার দুটির মধ্যে সমঝোথা হলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে চলন হয়। তবে শ্বাশুরীর কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকত। পলাশের দাবি, সুমন তার বোনকে হত্যা করে গ্রীলের সাথে ঝুলিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে। তিনি হত্যাকারী ও তার মায়ের বিচারের দাবি করেন।

ঘাতক স্বামী সুমনের বাবা স্কুল শিক্ষক আলতাফ প্রামানিক জানান, তার ছেলের সাথে পুত্র বধূর কোন বিরোধ ছিল না। তবে সামান্য পান থেকে চুন খসলেই মিম নিজে তার হাত ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্লেড দিয়ে কাটত।

খোকসা থানার ওসি তদন্ত ইদ্রিস আলী জানান, পাবিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী সুমন বিছানায় মিমকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে গ্রীলের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।