সম্মুখ প্রশংসা

25
ডঃমুন্সী মুর্তজা আলী

ড.মুন্সী মুর্তজা আলী

গতদিন লিখেছিলাম “আত্ম সমালোচনা” নিয়ে। সেই লেখার সাথে সম্মুখ প্রশংসা নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লেখাটা বড় হয়ে যাবে বলে লেখা হয়নি। আজ এ বিষয়ে সামান্য কিছু আলোকপাত করবো। প্রশংসা করা ভাল। তবে বেশী প্রশংসা করা ভাল নয়। আর যারা তোমার সামনে বেশী প্রশংসা করবে, তুমি ধরে নিবে তারা তোষামোদী করছে। মানুষ মানুষকে প্রশংসা করতেই পারে। তবে সেই প্রশংসা মাত্রাতিরিক্ত হলে তখনই মানুষের মনে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। তাই তো ইংরেজীতে একটি কথা আছে। তা হলো, Extolling on your face is a flatter অর্থাৎ “সম্মুখ প্রশংসা চাটুকারিতার নামান্তর”।

যে বিনা কারনে তোমাকে তোমার সম্মুখে প্রশংসা করবে। তাহলে বুঝবে তার কোন দূরভিসন্ধি আছে। তার মানে সে একজন ধান্দাবাজ ও ব্যক্তিত্বহীন মানুষ। আর ধান্দাবাজেরাই তোমার কাছ থেকে স্বার্থ আদায়ের জন্য তোমার সামনে এসে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলবে। আর এটাও মনে রাখবে। যে তোমার সম্মুখে বেশী প্রশংসা করে, সে তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার বদনামও করতে পারে। তুমি কাউকে উপকার করলে, সে তোমার সুনাম করতেই পারে। তবে তার একটা মাত্রা আছে।

প্রশংসার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বুঝবে, সে একজন মহা স্বার্থপর, ব্যক্তিত্বহীন ও মেরুদন্ডবিহীন মানুষ। কারণ ব্যক্তিত্ববান লোকেরা কখনো বেশী স্বার্থপর এবং বেহায়া হতে পারেনা। তাই তারা তোমার সামনে এসে নির্লজ্জের মত প্রশংসা করতেও পারবে না। এটাই ব্যক্তিত্ববান ও ব্যক্তিত্বহীনদের মধ্য মূল তফাত।

অনেক মানুষ আছে। যারা তোমার উপকার পেয়েও তোমার সামনে এসে ওভাবে প্রশংসা করতে পারে না। তবে তারা তোমার উপকারের কথা সারাজীবন মনে রাখবে এবং তোমার বিপদে তোমার উপকারের জন্য প্রাণপন চেষ্টা করবে। আর যারা তোমার সামনে এসে তোমার উপকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে। তখনই বুঝবে এরা তোমার বিপদে খুব কমই এগিয়ে আসবে এবং তোমার উপকারের ভিতর সমালোচনা খুঁজে বের করবে। বেশীরভাগ মানুষই এমন। তোমার উপকারের কথা মুখে স্বীকার করলেও মনে মনে স্বীকার করবে না। অন্যদের কাছে বলবে, তুমি উপকার করে তার ক্ষতি করে ফেলেছো। তুমি তাকে আরও বেশী উপকার করতে পারতে। অর্থাৎ উপকারের মাত্রা নিয়ে বিশ্লেষণ করবে।

সম্মুখ প্রশংসাকারীরা তোমাকে বেশী বেশী প্রশংসা করে তোমার মনটা দুর্বলকরে তোমাকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতেও দ্বীধা করবে না। তাই অন্যের করা প্রশংসা শুনে আবেগে আপ্লুত ও আনন্দে গদগদ হয়ে নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিও না। কেননা, তারা তাদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য তোমাকে ভুল পথে পরিচালিত করবে এবং তোমাকে বিপদে ফেলাবে। আর যারা তোমার সামনে এসে অপ্রিয় সত্য কথা বলে। তাদেরকে মুল্যায়ন করবে। এ মুল্যায়ন ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। কারণ তারা তোমার শুভাকাঙ্খী। তারা তাদের স্বার্থদ্ধারের জন্য তোমাকে কখনো বিপদে ফেলবে না।

জীবনে যদি কারো উপকার না করো, তবে কখনো তোমার সমালোচনাও হবেনা। উপকার করলে সমালোচনা হবেই। তবে ঐসব তথাকথিত সমালোচনাকারীদের কথামত মানুষের উপকার করতে পিছপা হইয়ো না। যার যেমন স্বভাব। সে তেমনটাই করবে। আর তোমার উপকার করার স্বভাব থাকলে, তুমি উপকার না করে থাকতে পারবে না। তাই তুমি তোমার মত করে চলবে। তবে সম্মুখ প্রশংসা করা মানুষ থেকে সাবধান থেকো। কেননা এই সম্মুখ প্রশংসাকারীরা ভবিষ্যতে তোমার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাস্তব সত্য হলো, মানুষ কেন যেন খারাপ মানুষের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে। কিন্তু যখন বোঝে, তখন আর কিছু করার থাকেনা। তাই সময় থাকতে সঠিক মানুষদের মূল্যায়ন করা উচিত।

অধ্যাপক
ড.মুন্সী মুর্তজা আলী
লোক প্রশাসন বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়া।

Print Friendly, PDF & Email