বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত

8

দ্রোহ স্পোর্টস ডেস্ক

দুই সপ্তাহ টানাপোড়েনের পর এলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আপাতত শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে না বাংলাদেশ।
বিসিবিতে সোমবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানান, কোয়ারেন্টিনের শর্ত নিয়ে আগের অবস্থান বদলায়নি শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিসিবিও তাই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে (এসএলসি) জানিয়ে দিয়েছে, পরে সুবিধাজনক সময়ে নতুন সূচিতে সিরিজ আয়োজন করতে।

তিন ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ খেলতে গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তা পিছিয়ে যায়। নতুন সূচিতে বাংলাদেশের রওনা হওয়ার কথা ছিল রবিবার। কিন্তু শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন নিয়ম নিয়ে বাধে গোল।

১৪ সেপ্টেম্বর বিসিবি প্রধান জানান, এত লম্বা সময় কোয়ারেন্টিন করে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি সম্ভব নয়। বিসিবি তাই লঙ্কান বোর্ডকে অনুরোধ করে কোয়ারেন্টিনের সময় কমাতে। এরপর এসএলসি ও শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নানা তৎপরতার খবর এসেছে শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে কাজ হয়নি বলেই জানালেন বিসিবি সভাপতি।

“ওদের ক্রিকেট বোর্ড, ওদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অনেক চেষ্টা করেছে। আমাদের মিনিমাম চাহিদা আমরা পাঠিয়েছিলাম। একটা ছাড়া বাকি সবগুলোতেই ওরা রাজি বলে আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু ওই একটাই আসল। যেটা হচ্ছে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন।”

“এটা শুধু আমাদের জন্য যে, যে কোনো টুরিস্টের জন্যই একই নিয়ম। এই জায়গায় ওরা বলেছে যে কিছুই করতে পারেনি। কালকেই এটা পেয়েছি, আজকে ওদেরকে জানিয়ে দিয়েছি যে পরে সূচি আবার ঠিক করতে। যখন এই ধরনের শর্ত থাকবে না, তখন আমরা যাব।”

দেশ থেকে চার দফায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়েই শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। ওখানে গিয়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল আরেক দফা। তাই বিসিবির চাওয়া ছিল, কোয়ারেন্টিন যেন সর্বোচ্চ সাত দিনের হয় এবং তিন দিনের পর থেকে যেন আলাদা থেকে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কতৃপক্ষ এখানে কোনো ছাড় দেয়নি, জানালেন নাজমুল হাসান।

“সাধারণত কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন, দুইটা দুই জিনিস বলে আমরা ধরি। ওদের ওখানে ১৪ দিন আসলে আইসোলেশন। অন্যান্য জায়গায় যেটা কোয়ারেন্টিন আছে, সেটার সঙ্গে এটার পার্থক্য আছে। এটা পূর্ণ আইসোলেশন, ঘর থেকেই বের হতে পারবে না। এই অবস্থায় ১৪ দিন ঘরে থাকলে একজন ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা তো পরে, মানসিক যে অবস্থা হবে, সেটি ফিরে পেতেই অনেক সময় লাগবে।” “এই অবস্থায় তাই আর সুযোগ নেই সফরের। আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছি। ওদের কিছু করার থাকলে আগেই করত, অনেক সময় নিয়েছে এমনিতেই। আর কিছু হবে না।”

সফর বাতিল হলেও ক্রিকেটারদের অনুশীলন চলতে থাকবে বলে জানালেন বিসিবি সভাপতি। জাতীয় দলের বিদেশি কোচিং স্টাফরাও থেকে যাবেন এখানে। শিগগিরই নিজেদের মধ্যে তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে ক্রিকেটাররা। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর পরিকল্পনা করছে বোর্ড।

Print Friendly, PDF & Email