সু চির মুক্তি চাইলো নিরাপত্তা পরিষদ

9

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে বন্দি হওয়া দেশটির নেত্রী অং সান সু চি ও অপর নেতাদের মুক্তি চেয়েছে।

এক বিবৃতিতে গণতন্ত্রকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানানো থেকে বিরত থেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে যে খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া বিবৃতির ভাষা ছিল কোমল। যুক্তরাজ্যের খসড়া প্রস্তাবে সম্মত ছিলো না চীন ও রাশিয়া। চিরাচরিতভাবে এই দুটি দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ আটকে দিয়ে আসছে। প্রকাশিত বিবৃতিতে, সামরিক অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার ওপর জোর দেন। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা, সহিংসতা থেকে বিরত থাকা এবং মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ফ্লাইট আবার শুরু করাসহ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সু চি সমর্থকরা। এতে শামিল হয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ মানুষকে প্রথমবারের মতো রাস্তায় নামতেও দেখা গেছে।

Print Friendly, PDF & Email