বুধবার, মে ৬, ২০২৬.
Home Blog Page 43

নতুন বই নিয়ে নদী পাড় হয়ে স্কুল থেকে ফিরছে শিশু সুমাইয়া

0

স্টাফ রিপোর্টার

সুমাইয়া এবার দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠলো। প্রতিদিন প্রকিূলতার সাথে যুদ্ধ করে খেয়া নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে ওরা তিন ভাই বোন একসাথে স্কুলে যায়। ওর এক প্রতিবেশী সাথী ছিলো। সে এবার ওদের স্কুল থেকে টিসি নিয়ে নদীর এপাড়ে ভর্তি হয়েছে। সুমাইয়ার বড় ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র। সে অনেকটা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বড় রাস্তা (আঞ্চলিক মহাসড়ক) পাড় হওয়া সমস্যা। তাই তিন ভাই বোন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে স্কুলে যায়।

কুষ্টিয়ার খোকসার খানপুর-মোড়াগাছা ভূমিহীন পল্লীর ফরিদা খাতুন ও কবিরুল দম্পতির তিন সন্তান সিয়াম দশম শ্রেণির ছাত্র, সায়েম ৬ষ্ঠ শ্রেণি আর সুমইয়া এবার উঠলো দ্বিতীয় শ্রেণিতে। সবার ছোট সুমাইয়া গত দুই বছর আগে গড়াই নদী পাড় হয়ে হিজলাবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলো। মা আর বড় দুই ভাই তাকে কোলে পিঠে করে খেয়া নৌকায় নদী পাড় করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া শুরু করে। এবার সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠলো। এখন একটু বড় হয়েছে। এখন সে সাঁতার জানে। তবে গরমের সময় নদীর চরের বালির মধ্যে দিয়ে হাটতে একটু কষ্ট হয়। গলা শুকিয়ে যায়। এবার তার একমাত্র সাথী অরনি নদীর এপারের (উপজেলা সদরের) স্কুলে ভর্তি হওয়ায় তার বয়সী আর কেউ রইল না। বড় ভাই সিয়ামের কারণেই তাকে নদী পাড় হয়ে বালুচর মারিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে স্কুলে যেতে হবে। গত দুই তিন বছর আগেও মোড়াগাছা, হিলালপুর, খানপুর ও হিজলাবট দ্বীপচর থেকে প্রায় ত্রিশজন শিশু শিক্ষার্থী গড়াই নদী পাড় হয়ে হিজলাবট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেবীনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করতো। কিন্তু সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রনে ধুয়োতুলে ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপজেলা সদরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। কিছু দিন পর ঘাট টি আবার চালু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের বছরের প্রথম দিন নতুন বই নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পাড় হয়ে বাড়ি ফিরছিল সুমাইয়া, সাইম ও তাদের মা ফরিদা। খেয়া ঘাটে দাড়িয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানালেন তিনি। প্রায় ১৫ বছর আগে কৃষিশ্রমিক দম্পতি নদীর উত্তর পাড়ের খানপুর ভূমিহীন পল্লীতে আশ্রয় পান। কিন্তু বড় ছেলে সিয়াম কানে কম শোনা আর বড়রাস্তা পার হতে ভয় পাওয়ায় তাকে নদীর দক্ষিন পাড়ের হিজলাবটে ভর্তি করেন। তখন প্রতিদিন একমাত্র ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। এভাবে পর্যায় ক্রমে তিন সন্তানকে তিনি নদীর পাড় হয়ে হিজলাবটে ভর্তি করেন। আসা যাওয়া করেন ফরিদা। ঘাটের মাঝি আয়ুব আলী তার সন্তানদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেন না। আবার নদী পাড়ের স্কুলেও একটু সুবিধা আছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি শ্রমিক স্বামী কবিরুল সকালে কাজে বেড়িয়ে গেলে সেও সন্তানদের নিয়ে স্কুলের উদ্যেশে বের হন। দুইজনে ফেরেন আবার বিকালে। তিনি সন্তান লালন করছেন।

এখানেই কথা হয় শিশু সুমাইয়ার সাথে। নদী পাড় হওয়া তার জন্য খুব সমস্যা না। দশম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া দুই ভাই ছাড়া তার আর কোন সাথী নাই। এ ছাড়া গরমের সময় নদীর চর পাড়ি দেওয়া কষ্ট হয়। তৃষ্টায় গলা শুকিয়ে যায়। এখন সে সাঁতার জানে নদী পাড় হতে ভয় লাগে না। তয় (তবে) পানি যেখুন (যখন) বেশী হয় তখন একটু ভয় হয়। তখন বড় ভাই সাথে থাকালে সাহস হয়। তার বড় ভাই সিয়াম কানে শোনে না। তা ছাড়া বড় রাস্তা পাড় হতে ভয় পান। তাই তাকে নদী পাড় হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বড় ভাই কানে শুলে তারা ওপাড়ের স্কুলে যেতোনা।

খেয়া ঘাটের মাঝি আয়ুব আলী জানান, একজন দিন মুজুরের তিনটে বাচ্চা পড়া লেখা করাচ্ছে তাই তিনি তাদের কাছ থেকে ঘাট খাজনা নেন না। আগে যখন ২৫/৩০ ছাত্র প্রতিদিন পাড় হতো তাদের কাছ থেকেও পাড়াপাড়ের জন্য খাজনা নিতেন না।

শ্বশুর বাড়ির উঠানে পাওয়া গেলে রাজমিস্ত্রির মরদেহ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্বশুর বাড়ির উঠান থেকে রানা আহমেদ (৩৫) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের জোয়ারদার পাড়ায় একটি বাড়ির উঠান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রানা আহমেদ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মালিথার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রানা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে মালিহাদ জোয়ারদার পাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। বাড়ির উঠানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

মিরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। মরদেহের বাঁ চোখে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অস্তাচলে বছরের শেষ সূর্য

0

জীবন অঙ্কের হিসেবের খাতায় শেষ হয় বছর। অস্তাচলে যায় সূর্য। নতুন বছরে নতুন সূর্য নিয়ে আসে নতুন হিসাবের সম্ভাবনা। কুষ্টিয়ার খোকসার গড়াই নদী তীর থেকে বুধবার ছবিটি তোলা।

বছরের শেষ স্নিগ্ধ গোধূলীর আলোয় মা কুকুরটি তার ক্ষুধাতুর ছানাদের দুধ পান করিয়ে ক্ষুধা নিবারনে ব্যস্ত। কুষ্টিয়ার খোকসার গড়াই নদীর তীর থেকে বুধবার ছবিটি তোলা।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার বিকালে জানাজা শেষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নামেন বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি তার মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন।

এদিন বিকাল সোয়া ৪টায় জিয়া উদ্যানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে শায়িত করার কাজ শুরু হয়। এসময় তারেক রহমানকে কবরে নেমে যেতে দেখা যায়। মাকে কবরে শায়িত করে বিকাল সাড়ে ৪টার কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে আসেন।

পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তিন বাহিনীর প্রধান কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় জাতীয় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। এ সময় সড়কের দুপাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেসময় এলাকাজুড়ে শোক ও নীরবতার আবহ বিরাজ করে।

সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে যান সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।

খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক। এর আগে, খালেদা জিয়ার জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তার ছেলে তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দোয়া করবেন। আল্লাহতায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।’

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে গুররুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার দাফনের মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।

বাঁশবাগান থেকে কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

0
বাঁশবাগান থেকে কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সিয়াম হোসেন (১৭) নামের এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় সে নিখোঁজ হয়।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত সিয়াম দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মধুগাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি গোয়ালগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম সিপুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মধুগাড়ি এলাকার শেহালা উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের একটি বাঁশবাগানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি সিয়াম। পরে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, সিয়ামের সঙ্গে এলাকার কারো কোনো বিরোধ বা শক্রুতা ছিল না।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, সকালে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

যে শোক ছড়িয়ে গেল সবপ্রাণে

0

খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারের পরে অনেক ভক্তই বিশ্বাস করতে পারেন নি। তাদের ছুটে আসতে দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপির অফিসে। খবর নিশ্চিত হয়ে কেউ কেঁদেছেন, কেউ শোক পালনে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। মুহুত্যেই শোক ছড়িয়ে পরে সবপ্রাণে। শোকের কালো পতাকা বাঁধা নিয়ে ব্যস্ত শোকাহত দল পাগল কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার পৌর বিএনপির অফিস থেকে ছবিটি তোলা।

মা’র প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসায় আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ: তারেক রহমান

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।’

তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।’

তিনি লেখেন, ‘ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্ররণা যুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি লেখেন, ‘আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

0

বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষনা

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এছাড়া আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে। সংসদ ভবন প্লাজায় তার জানাজা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমানের মাজারের (জিয়া উদ্যানে) ওখানেই তাকে দাফন করা হবে।’

জানাজা কখন হবে- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্তটা হবে একটু পর হবে। তবে সম্ভাব্য সময় বলতে পারি আগামীকাল (বুধবার) জোহরের পর।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘তার মরদেহ এখন এভর কেয়ারে থাকবে, সেখানে যে সব প্রস্তুতিমূলক কাজ হওয়া দরকার সেগুলো হবে। এরপর কালকে সকালে সেখান থেকে জাতীয় সংসদে নেওয়া হবে। মূল রাস্তা দিয়েই সেখানে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে, সেজন্য হয়তো সময় একটু বেশি লাগবে।’

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

মারা গেলেন খালেদা জিয়া

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আপসহীন নেত্রী বিদায় জানালেন দেশবাসীকে।

গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ে বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়। এ অবস্থায় ২৩ নভেম্বর তাকে জরুরিভিত্তিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জানান তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা আছে। তার কিডনি ডায়ালাইসিসও করতে হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে নানান ধরনের গুরুতর রোগে ভুগছিলেন খালেদা জিয়া।

জানা যায়, অনেক বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানান জটিলতায় ভুগছিলেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন সবশেষ জানান, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে পরের দুই বছর দুই মামলায় দন্ডিত হয়ে তিনি পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী সময় কাটান। সে সময় কারাগারে নিলে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ।’ কারাগারে থাকাকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কয়েকবার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদি দেশে সে সময় তার পছন্দ ছিল ইউনাইটেড হাসপাতাল। বারবার আবেদনেও আওয়ামী লীগ সরকার চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। তাকে বিদেশে নিতে আন্দোলন-বিক্ষোভও করেন তার দলের নেতাকর্মীরা।

২০২১ সালের মে মাসে ঢাকায় নিজের বাসায় বন্দি থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তখনও তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।

২০২৪ সালের জুনে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তার শরীরে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্তু হয়। সেময় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে বøক ছিল। আগে একটা রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে পেসমেকার বসানো হয়।’

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সব দন্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান তিনি। পরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের নানা শারীরিক জটিলতা রয়েছে, যা আমরা বিভিন্ন সময় বলেছি।

সর্বোপরি ওনার লিভারের জটিলতা অর্থাৎ লিভার সিরোসিস পরে কম্পেনসেন্টারি লিভার ডিজিজ বলে গ্রেট-টু সেটার জন্য টিপস (চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষ পদ্ধতি টিআইপিস-টিপস) করা হয়েছে। টিপসের কিছু টেকনিক্যাল অ্যাসপেক্ট আছে অ্যাডজাস্টমেন্টের বিষয় আছেৃ আপনি দেখতে হার্টে স্টান্টিং করার পর চেক করে আবার সেটার জন্য রি-স্টান্টিং করে অথবা চেক করে দেখে যে, স্টান্টিংটা ভালোভাবে কাজ করছে কি না এই জিনিসগুলো তো আমরা করতে পারি নাই।’

প্রায় চার মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

প্রতিবাদ

0

জুলাই যোদ্ধা ইনকিলা মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদীর হত্যা কারীদের দ্রæত আইনে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকালে কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির ছবিগুলো তোলা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ

কুষ্টিয়াবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে এমপি আমির হামজার পোষ্ট

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দঁড়ানোর জন্য কুষ্টিয়াবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। একই সাথে তিনি কু্ষ্িটয়াবাসীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহবান জানিয়েছেন। সোমবার (৪ এপ্রিল) রাতে...

ঘুড়ি

ঘুড়ি। আগের মত আর রঙিন কাগজের ঘুড়ির দেখা মেলে না। এখন প্রচলন হয়েছে পলিনি পেপারের তৈরী ঘুড়ি। শিশুটি বোরো ধানের আইল দিয়ে ঘুড়ি হাতে...

খোকসায় রাস্তার গর্তে ভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসায় রাস্তা বর্ধিত করণের গর্তে ভ্যান উল্টে গিয়ে ঝন্টু দাস (৫০) নামের এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ভ্যান একশিশু ও...

খোকসায় রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় বীব মুক্তিযোদ্ধার দাফন

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুল ওহাব (৭৩) কে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে...

পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে, জনতার শক্তি জয়ী হয়েছে: নরেন্দ্র মোদী

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটেছে বলে সামাজিক মাধ্যম...