সুনিদ্রিষ্ট নিশানার লাটিমটিকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে পারলেই বিজয়ী হওয়া যাবে। তাই বিজয়ী হওয়ার শৈশবে লাটিমের প্রতি অবর্ণনীয় আকর্ষন থাকে সব বাঙালী শিশুদের। সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা সিংঘড়িয়া থেকে শিশুদের লাটিম খেলার ছবিটি ধারণ করা।







সুনিদ্রিষ্ট নিশানার লাটিমটিকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে পারলেই বিজয়ী হওয়া যাবে। তাই বিজয়ী হওয়ার শৈশবে লাটিমের প্রতি অবর্ণনীয় আকর্ষন থাকে সব বাঙালী শিশুদের। সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা সিংঘড়িয়া থেকে শিশুদের লাটিম খেলার ছবিটি ধারণ করা।







দ্রোহ ক্রীড়া ডেস্ক
নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রবিবার বিসিবির ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলমের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে বোর্ড।
রবিবার বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল জাতীয় নারী দলের সিনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা আলমের একটি অভিযোগ কেন্দ্র করে। নারী দলে দায়িত্ব পালনকালে মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। সেই কমিটির দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে জাহানারার চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে রবিবার মঞ্জুরুলকে বাংলাদেশের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। বর্তমানে মঞ্জুরুল ইসলাম চীনের নারী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, দেশে ফেরার পর বা দেশের কোনো ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি আর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।
সূত্র আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাহানারা আলম যদি ব্যক্তিগতভাবে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, তবে বিসিবি তাকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে। নারীর নিরাপত্তা ও ক্রিকেটের পরিবেশ স্বচ্ছ রাখার স্বার্থেই বোর্ড এমন আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ফার্নিচার, একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান ও একটি ডেন্টিসের ( পল্লী চিকিৎসক) দোকান পুড়ে অন্তত ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত আগুন তা জানা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন – ওই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে জাকির হোসেন। তিনি কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী। ফজলু শেখের ছেলে ফয়সাল শেখ। তিনি কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিনের ব্যবসায়ী। অপরজন হলেন আলতাফ হোসেনের ছেলে শরিফ উদ্দিন (ডেন্টিস)।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে তিনটার লাহিনীপাড়া এলাকার তিনটি দোকানে দাউ দাউ করে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে চিৎকার চেঁচাচেচি করে সকলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করেন। এরপর এলাবাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রায় একঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে সকল মালামালসহ তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী হোসেন জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুন দেখে সবাই ছুটে এসে নিভানোর চেষ্টা করে। শেষ মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। ততক্ষণে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ জাকিরের ভাই লালন হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের দোকানে কাঠ, ফার্নিচার, যন্ত্রপাতিসহ ১৫ – ২০ লাখ টাকার মাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ‘তার ভাষ্য, তিনটি দোকানে প্রায় ২৫ – ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সমন্ধে কিছু জানা যায়নি।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার আলী হোসেন ফোনে বলেন, খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সকলের সহযোগীতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের সুত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপক্ষে পরে জানানো যাবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এক আইনজীবীর সদস্যপদ খারিজের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার বেলা ১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু আজম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির তালিকাভুক্ত সদস্য তিনি। পরে ঢাকা বার কাউন্সিলের সদস্য পদলাভ করেন। জেলা আইনজীবী সমিতিতে একাধিকবার বিভিন্ন পদে নির্বাচনও করেছেন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ আইনজীবী শেখ আবু সাঈদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকেও এবার বিএনপিপন্থী সেজে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এবার সভাপতি পদে লড়ছেন।
আবু আজমের দাবি, সমিতির আরও অনেক আইনজীবী ঢাকা বার কাউন্সিলের সদস্য হলেও শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রেই এ যুক্তি দেখিয়ে প্রভাব খাঁটিয়ে অন্যায়ভাবে শেখ আবু সাঈদ তার সদস্যপদ খারিজ করিয়েছেন। ন্যায়বিচার ও নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এ বিষয়ে ঢাকা বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ করেছেন আবু আজম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অ্যাডভোকেট শেখ আবু সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্ত কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করার কারনেই কুষ্টিয়া ৪ আসনে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে বলে সাংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করা নেতাদের বহিস্কারের দাবি করা।
রবিবার দুপুরে কুমারখালীতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়। কুমারখালী বাসস্টান্ডে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.তরিকুল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস উজ জামান, খোকসা পৌর বিএনপির সভাপতি এজেডজি রশিদ রেজা বাজু মুন্সীসহ নেতাকর্মী।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা আমজাদ আলী বলেছেন, ‘কুষ্টিয়া ৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি এ আসনের দুইবারের সাবেক এমপি ছিলেন। তাঁর বাবা সৈয়দ মাসুদ রুমীও এমপি ছিলেন। তবে দলীয় কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও সমর্থকদের বেঈমানির কারনে গত ১২ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এই আসনে মেহেদী রুমী ছাড়াও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল মেহেদীকে মনোনয়ন দিলেও সাদী ও আনছার স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। এরপর শেষ পর্যন্ত আনছারের প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা হয় এবং সাদী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। তবুও এই দুই নেতা ও কর্মীদের সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের সঙ্গে বিরোধিতা করে এবং দাঁড়িপাল্লায় প্রকাশ্যে ভোট করেন।’
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা আমজাদ আলী বলেছেন, ‘ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী, কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান এবং খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান ও তাঁদের সমর্থিত নামধারী বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা করায় ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে। এখন আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। মূলত অভিযোগকারীদের কারনেই প্রার্থী হেরেছে।’
আর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা কি হয় নাকি। আমরা বাদ দিলে কি বিএনপি থাকে। শোনেন, আমি, আনছার ভাই, আলাউদ্দিন সাহেব, লুৎফর ভাই, আমরায় তো কুমারখালী খোকসার নেতা। আমরা যদি ভোট না করতাম। তাহলে এতো ভোট আসতো কোথা থেকে। ‘ তাঁর ভাষ্য, কিছু নেতাকর্মী নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার
শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করা ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন সেতু নিজের দোষ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন।
রবিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মার্কেটের দেওয়া আঁকা হাদীর ছবির সামনে দাড়িয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন সেতু প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। এ সময় আন্দোলন কারীদের পক্ষে পৌর জামায়াতের নেতা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক, খোকসা উপজেলার (দক্ষিন) শিবিরের সভাপতি আবু বক্কর, বৈষম্য বিরোধী আন্দেলনের নেতা বিপ্লব উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার প্রধান বাজারের লতাবাহার গলির রিফাত টেলিকমের মালিক ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন সেতু গত ২০ ফেব্রæয়ারি অন্য একটি ফেসবুক পেজে শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়ে কটুক্তি মুলক স্ট্যাটাস দেন। এর পর নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে তিনি একাধিক বার নিজের ফেসবুক পেজে ষ্ট্যাটাস দেন। আর বিরুদ্ধে নেটিজনার আন্দোলন শুরু করলে ওই ব্যবসায়ী আত্মগোপন করেন। দুই দিন আত্মগোন করে পালিয়ে থাকেন। অবশেষে প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে ওসমান হাদীর অনুসারীরা উপজেলা সদরের একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি খোকসা থানা গেট থেকে শুরু করা হয়। রিফাত টেলিকমের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয় । এক পর্যাযে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীি সেতু আন্দোলন কারীদের সাথে কথা বলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে সন্মত হন।
সমযোথার ভিাত্ততে রবিবার সকালে স্থানীয় স্কুল মার্কেটের দেওয়ালে আঁকা ওসমান হাদীর ছরির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ব্যবসায়ী সেতু বলেন, একটি ফেসবুকে ওসমান হাদিকে নিয়ে লেখা বøগে তিনি বেফাস স্ট্যাটায়ে লিখেছিলেন। প্রকৃত পক্ষে তিনি নিজে দোষ করেছিলেন। এ জন্য তিনি দেশবাসীসহ হাদী পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সাথে ওসমান হাদীর পক্ষের বিভিন্ন ¯েøাগ দেন।
এ সময় উপস্থিত জামায়াত নেতা ও সাবেক কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানুষ ভুল স্বীকার করলে মহান আল্লাহ ক্ষা করেন। অপরাধী ব্যবসায়ী সেতু সে তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। এ জন্য প্রথম বার তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্নআহবায়ক মামুন প্রমানিকের বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সবাইকে একঘরে বেঁধে রেখে সোনা রুপার গহনা ও নগদ টাকা সহ ১৫ লাখ টাকার মালামাল ডাকতকরা নিয়ে গেছে।
শনিবার দিনগত রাত ১২ টার পর উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ফুল বাড়িয়া গ্রামে স্বশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল চলে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থলে গিয়েছিলো। পরদিন রবিবার বেলা ১১ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
ডাকাতির হামলার শিকার মামুন প্রামানিক একজন ফিড ব্যবসায়ী। মুরগির খামারি ও কৃষক। পাশাপাশি তিনি খোকসা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আশরাফ প্রামানিকের ছেলে।
গৃহকর্তা মামুনের বাবা আশরাফ প্রামানিক জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা ১৫ জনেরও বেশি ছিলো। অনেকের মুখ কালো কাপড় ও মাফলারে ঢাকা ছিলো। তবে আগ্নেয় অস্ত্রধারীদের মুখ খোলা ছিলো। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পুলিশকে কয়েক বার ফোন দেওয়া হয়। অনেক পরে পুলিশ তার বাড়ি ঘুরে আসে।
তিনি আরও জানান, রাতে মামুন তার মুরগির খামার থেকে বাড়ি আসার কিছু সময় পর রাত ১২টার দিকে খামারের একটি সেডের মুরগি অস্বাভাবিক ভাবে ডাকতে থাকে। তখন মামুন আবার খামারে ফিরে যায়। সেখান থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা মামুনের টর্চ লাইট আয়ত্বে নেয়। এরপর তার কাছে পানি খেতে চায়। তাকে (মামুনকে) সাথে নিয়ে বাড়িতে আসে। এ সময় তাকে দিয়ে বাড়ির অন্য নারী-পুরুর সদস্যদের ডেকে তুলে সবাইকে এক ঘরে আটকায়। বৃদ্ধ আশরাফ ও মামুনকে পিটমোরা দিয়ে বেঁধে ফেলে। এ সময় ডাকতরা সোনা রুপার গহনা ও নগদ টাকা সন্ধ্যানে বাড়ির প্রতিটি ঘরের তল্লাসী চলায়। প্রায় আঁধা ঘন্টা ধরে ডাকাতরা এ তান্ডব চালায়। পরে সবাইকে একঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে বাড়ির পূর্ব দিকের মাঠ দিয়ে পাংশা উপজেলার দিকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়ক মামুন প্রামানিক জানান, রাতে তিনি খামারের মুরগি গুলো শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা তার হাতের টর্চ লাইট নিয়ে নেয়। পানি খাওয়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে এসে ডাাকাতি শুরু করে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। প্রতিটি ঘরের টির ও কাঠের বাক্স, আলমারি, বিছানা পত্র তছনছ করে। ডাকাতরা ৫টি সোনার চেইন, একজোড়া সোনার রুলি বালা, কানের দুল ও তার মায়ের প্রায় ৮ ভড়ি রুপার গহনা হাতিয়ে নেয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যারে। এ ছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা নিয়ে গেছে। ডাকাতদের চিনতে পারেননি। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার সাথে কারো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ফুলবাড়িয়া ডাকাতি হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে এরিপোট লেখাপর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। কাউকে আটকও করতে পারেনি বলে জানান। তবে ডাকাতদের চিহ্ণিত করার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, নির্বাচনে যদিও ইঞ্জিনিয়ারিং প্লানিং যাই বলেন মেকানিজম হয়েছে, তবুও গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। আগামীতে আমরা চাই সাংবাদিককরা স্বচ্ছতা ধারাবাহিকতা ঠিক রাখবেন, ন্যায়কে ন্যায় এবং অন্যায় কে অন্যায় বলবেন, কোন ব্যাক্তি বা কোন গোষ্ঠীর দিকে ঝুলে পড়বেন না ঝুঁকে পড়বেনা।”
শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আমির হামজা আরও বলেন,”আপনাদের এই কাজকে আমরা ছোটখাটো কাজ হিসাবে বিশেষ করে আমি দেখি না। আমি এটাকে মহান পেশা মনে করি। আপনারা যে মহান পেশায় আছেন যেখান থেকে তথ্যগুলো এনে জাতির সামনে দিবেন, সেই কাজটা যে এবাদত আমরা অনেকেই মনে করি না।”
ইফতার মাহফিলে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দারের সভাপতিত্বে ও শহর জামায়াতের আমির এনামুল হককের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ (অব:) খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মজলিসের শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় সাক্ষী ও বাদীপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় মামলার সাক্ষী আসমত গাইন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ছাতারপাড়া বাজারে আপন দুই ভাই হত্যার শিকার হয়। এ সময় আরও দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আসমত গাইনও ছিলেন।
নিহতরা হলেন হামিদুল ইসলাম (৪৮) ও তাঁর ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫)। তারা ছাতারপাড়া এলাকার বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গাইন বংশের লোকজন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পিয়াদা বংশের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় এতে গাইন বংশের আপন দুই ভাই নিহত হয়। সেই জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে সম্প্রতি বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষের লোকজন মামলার সাক্ষী আসমত গাইনের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে আহত আসমতের ভাতিজা সজিব হোসেন বলেন, ইফতারের আগে আমাদের বাড়িতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে আমার চাচা গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বছর আমাদের গ্রামে আপন দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হন এবং ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, পূর্বের জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভাইয়ের কল্যাণ কামনায় ধনী গরিব নির্বিশেষে বিবাহিত নারীরা কয়েক গ্রাম ভিক্ষা করেছেন। সেই ভিক্ষার চাউল, ডাউল, তেল আলু দিয়ে একত্রিত হয়ে শনি দেবতার পূজা করছেন। ভাইদের দেওয়া নতুন বস্ত্র পরে সব বয়সী মহিলারা দেবতার উদ্দেশ্যে অঞ্জলি দিতে সামিল হয়েছেন। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পৌর এলাকার কুঠি কমলাপুর মাতৃ মন্দিরের সামনে থেকে শনিবার বিকালে তোলা ছবি।




