খোকসায় কৃষকদল নেতার বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি

0
19

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্নআহবায়ক মামুন প্রমানিকের বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সবাইকে একঘরে বেঁধে রেখে সোনা রুপার গহনা ও নগদ টাকা সহ ১৫ লাখ টাকার মালামাল ডাকতকরা নিয়ে গেছে।

শনিবার দিনগত রাত ১২ টার পর উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ফুল বাড়িয়া গ্রামে স্বশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল চলে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থলে গিয়েছিলো। পরদিন রবিবার বেলা ১১ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

ডাকাতির হামলার শিকার মামুন প্রামানিক একজন ফিড ব্যবসায়ী। মুরগির খামারি ও কৃষক। পাশাপাশি তিনি খোকসা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আশরাফ প্রামানিকের ছেলে।

গৃহকর্তা মামুনের বাবা আশরাফ প্রামানিক জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা ১৫ জনেরও বেশি ছিলো। অনেকের মুখ কালো কাপড় ও মাফলারে ঢাকা ছিলো। তবে আগ্নেয় অস্ত্রধারীদের মুখ খোলা ছিলো। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পুলিশকে কয়েক বার ফোন দেওয়া হয়। অনেক পরে পুলিশ তার বাড়ি ঘুরে আসে।

তিনি আরও জানান, রাতে মামুন তার মুরগির খামার থেকে বাড়ি আসার কিছু সময় পর রাত ১২টার দিকে খামারের একটি সেডের মুরগি অস্বাভাবিক ভাবে ডাকতে থাকে। তখন মামুন আবার খামারে ফিরে যায়। সেখান থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা মামুনের টর্চ লাইট আয়ত্বে নেয়। এরপর তার কাছে পানি খেতে চায়। তাকে (মামুনকে) সাথে নিয়ে বাড়িতে আসে। এ সময় তাকে দিয়ে বাড়ির অন্য নারী-পুরুর সদস্যদের ডেকে তুলে সবাইকে এক ঘরে আটকায়। বৃদ্ধ আশরাফ ও মামুনকে পিটমোরা দিয়ে বেঁধে ফেলে। এ সময় ডাকতরা সোনা রুপার গহনা ও নগদ টাকা সন্ধ্যানে বাড়ির প্রতিটি ঘরের তল্লাসী চলায়। প্রায় আঁধা ঘন্টা ধরে ডাকাতরা এ তান্ডব চালায়। পরে সবাইকে একঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে বাড়ির পূর্ব দিকের মাঠ দিয়ে পাংশা উপজেলার দিকে চলে যায়।

ভুক্তভোগী উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়ক মামুন প্রামানিক জানান, রাতে তিনি খামারের মুরগি গুলো শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা তার হাতের টর্চ লাইট নিয়ে নেয়। পানি খাওয়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে এসে ডাাকাতি শুরু করে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তাদের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। প্রতিটি ঘরের টির ও কাঠের বাক্স, আলমারি, বিছানা পত্র তছনছ করে। ডাকাতরা ৫টি সোনার চেইন, একজোড়া সোনার রুলি বালা, কানের দুল ও তার মায়ের প্রায় ৮ ভড়ি রুপার গহনা হাতিয়ে নেয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যারে। এ ছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা নিয়ে গেছে। ডাকাতদের চিনতে পারেননি। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার সাথে কারো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ফুলবাড়িয়া ডাকাতি হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে এরিপোট লেখাপর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। কাউকে আটকও করতে পারেনি বলে জানান। তবে ডাকাতদের চিহ্ণিত করার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান।