রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬.
Home Blog Page 710

মাগুরায় প্রাণঘাতী করোনায় একজনের মৃত্যু

0
Corona-Dro-19-p-18 virus-compressed

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাগুরায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলার রায়গ্রামের বাসিন্দা লিটন (৩২) মারা যান। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল আটজনে।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

মাগুরা সিভিল সার্জন ডাঃ প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, মৃত লিটন দুদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বাবাকে পিটিয়েছিলেন এই সাহেদ’ই

0
sahed-dro-22-7-p-23
প্রতারনার আসামী সাহেদ-ফাইল ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

দেশের মানুষের সাথে করোনার মত ভংয়কর প্রাণঘাতী ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় মিথ্যে রিপোর্ট, জাল শিক্ষা সনদ,মাদকব্যবসা, ঋণ খেলাপী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং নিজের শিক্ষাগত সনদের মিথ্যে দলীলসহ করোনা শনাক্ত বলেও নিজের সাথে প্রতারনা করেন প্রতারণার আসামী সাহেদ।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে উঠে আসছে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ। এমনকি নিজের বাবাকেও বেল্ট দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সাহেদের একজন সাবেক দেহরক্ষী জানান, বৃদ্ধ বয়সে সাহেদের বাবাকে কেউ দেখভাল করার ছিলনা। নিজের আশ্রয়ের প্রয়োজনে ২০১১ সালের দিকে প্রতারক সাহেদের বাবা ছেলের একান্ত সহকারীকে বিয়ে করেন। নিজের পিএসকে বিয়ে করার কারণে সাহেদ তার বাবাকে উত্তরার অফিসে প্রকাশ্যে বেল্ট দিয়ে বেদম মারধর করেন। এমন ঘটনায় রিজেন্টের অনেক কর্মী বিস্মিত হয়ে যান। এরপরে সাহেদের বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় থাকতেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে তার একটি সন্তান রয়েছে। সাহেদের মা সাফিয়া করিম অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন।

প্রতারক সাহেদের অপকর্মের তথ্য জানাতে র‌্যাব যে অভিযোগ হটলাইন চালু করেছে সেখানে মঙ্গলবার অবধি প্রায় দেড়’শ অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৩০টি অভিযোগ এসেছে টেলিফোনে। আর বাকি ২০টি ই-মেইলে।

শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল,বাবা গ্রেফতার

0
Jhenidah-Dro-22-7-p-2
শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বাবা গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে শিশু নির্যাতনের ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

নিজের দুইটি অবুঝ শিশু সন্তানকে নির্দয় ভাবে পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে পিটিয়েছে বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধানহাড়িয়া গ্রামে। উক্ত নির্যাতনের ঘটনায় পাষন্ড পিতা হাবিবুর রহমান শিমুলকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, মাদকসেবী স্বামী শিমুলের অমানবিক নির্যাতনে অসহ্য হয়ে ঘর ছেড়ে পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেন স্ত্রী শিরিন সুলতানা। বেশ কিছুদিন স্ত্রী বাড়িতে ফিরে না আসায় দুই শিশু সন্তানকে চেয়ারের সাথে বেঁধে মারধর শুরু করে এবং তা ভিডিও করে স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয় স্বামী। স্ত্রী শিরিন সুলতানা নিজ সন্তানদ্বয়ের নির্যাতনের ভিডিও দেখে ঠিক থাকতে পারেননি। তিনি ফেসবুকে ভিডিওটি পোষ্ট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মঙ্গলবার ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের ঘটনাটি নজরে আসলে তিনি দ্রুতই শিশু নির্যাতনকারী পিতাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। নির্যাতনের ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিজের দুই সন্তানকে চেয়ারের সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করছে পিতা শিমুল। একই সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে তোর মা আমার কথা শোনে না কেন? শিশু সন্তানকে দিয়ে শিমুল ঘর মোছানোর কাজও করাচ্ছেন।

শিরিন সুলতানা বলেন, বিয়ের পর থেকে শিমুল মারধর করত। এ নিয়ে কয়েক বার শালিস বৈঠক হয়েছে। তার স্বভাব পরিবর্তন না হওয়ায় আমি তাকে তালাক দিয়ে পিতার বাড়িতে চলে এসেছি। কিন্তু এখন ওদের বাবা তাদের উপর চরম অত্যাচার শুরু করেছে। শিমুল নেশা করে। আমার শ্বশুরও বলেছে তুমি এখানে আসলে শিমুল তোমাকে খুন করে ফেলবে।

সোমবার সাবেক স্বামী শিমুল সন্তানদের নির্যাতনের ভিডিও করে আমার কাছে পাঠায়। আমি ফেসবুকে ভিডিওটা পোষ্ট করে প্রতিকার চেয়েছি। এখন আমি আমার বাচ্চাদেরকে আমার কাছে রাখতে চাই।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। শিশু নির্যাতনকারী পিতাকে থানায় আনা হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ছেলে ২টিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পিতা শিমুলকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ, ঝিনাইদহ শহর সংলগ্ন ধানহাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান শিমুলের সাথে বিয়ে হয় শহরের আরাপপুর এলাকার শিরিন সুলতানার। তবে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিরিন সুলতানা দুই বছর আগে স্বামীকে তালাক দেয়।

https://www.youtube.com/watch?v=VKQUfLdSLmA

১ আগস্ট ঈদুল আজহা

0
প্রতিকী ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি মঙ্গলবার । এর ফলে ১ আগস্ট শনিবার দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুল ইসলাম। পরে তিনি আগামী ১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপনের এ ঘোষণা দেন।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সোমবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩১ জুলাই সেখানে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ভার্চুয়াল পশু হাটের প্রয়োজন

0

করোনা মহামারীর মধ্যে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ জুলাই অথবা ১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসাতে নানা উদ্যোগ নিলেও আদৌ কি সম্ভব? এ প্রশ্ন সবার মনে দেখা দিয়েছে।

যেখানে কাঁচাবাজার কিংবা শপিংমলগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যাচ্ছে না, সেখানে পশুর হাটে সম্ভব হবে কি? এমন পরিস্থিতিতে পশু কেনাবেচা করলে মানুষের ভিড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়িয়ে দেওয়া আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল পশুর হাটই উত্তম বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারত। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে কয়েক বছর ধরে অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে, অনেক বড় খামারি ফেসবুকে লাইভওয়েটে কোরবানির পশু বিক্রি করতেন। তবে করোনার ঝুঁকির কারণে এবার এর চাহিদা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্পের (আইডিইএ) আগে ফুড ফর ন্যাশন নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এরই আলোকে আইডিইএ প্রজেক্টের স্টার্টআপ বাংলাদেশ ব্যানারে ডিজিটাল হাটের এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে প্রকল্পটি। এটি সরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হচ্ছে। আমরা মনে করি, যত বেশি অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তত কমবে।

এবার ঢাকার দুই সিটি মিলিয়ে পশুর হাট বসবে মোট ২৪টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হবে ১৪টি। সারাদেশের জেলা-উপজেলায়ও কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাস্তবে অনুমোদনের বাইরেও কোরবানিতে আরো অনেক হাট বসে। সব মিলিয়ে এই হাটের সংখ্যা সারাদেশে ৫ হাজারের কম হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটের একটা যোগ আছে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও অনেকটা নির্ভরশীল কোরবানির ওপরে। পরিকল্পনা করে করোনায় অর্থনীতি সচল রাখা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে হাটবাজার খুলে দিলে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিও বাঁচবে না, মানুষও বাঁচবে না। শুধু পশুর হাট নয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে পশু কোরবানিও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। কোরবানির হাট নিয়ে কতৃপক্ষের পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। এখনো সময় আছে, তাই পরিকল্পনা করে কোরবানির পশুর অনলাইন বাজার শক্তিশালী করতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোপূর্বে যে কার্যক্রমগুলো গৃহীত হয়েছে, তার কোনোটাই আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কোরবানির বাজারে বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করার আর কোনো সুযোগ নেই। তাই কোরবানির হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যত্রতত্র হাট বসানো যাবে না। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হাট বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক হাটের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া যায়।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

মধ্যবিত্তের সীমাবদ্ধতা

0
Dro-21-7-p-16
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বাঙালি মধ্যবিত্ত সব সময়েই হিসাব করে চলে, লাভের সুযোগ দেখলে উৎফুল্ল হয়, বিপদের আভাস অনুমান করা মাত্র নিজেকে গুটিয়ে নেয়। দুই ব্যাপারে কোনোটাতেই আপেক্ষিকতার ধার ধারে না, এসব ব্যাপারে সে চরমপন্থি। এই যে তার আত্মসচেতনতা তার কারণ আছে। সে প্রসঙ্গে আমরা আবার আসব। আপাতত আমাদের বিবেচ্য ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান নয়, সমষ্টিগত ভালো-মন্দ। সমষ্টির জন্য বাঙালি মধ্যবিত্ত কী করে, কতটা করে এবং সেখানে তার ভালো ভূমিকার এবং খারাপ কাজের হিসাব-নিকাশটা কেমন দাঁড়াবে, আমরা সে দিকেই তাৎক্ষণিকভাবে তাকাতে চাইব। বাঙালি মধ্যবিত্তের ভালো কাজের তালিকাটা সামান্য নয়। আমরা যে সংস্কৃতির পরিচয়ে পরিচিত হই, কিছুটা হলেও গর্ব করি, তার গঠনে মধ্যবিত্তের ভূমিকাই প্রধান। উচ্চবিত্ত থেকেছে উদাসীন, বিত্তহীনদের ছিল এবং এখনো রয়েছে, অপরিসীম অপারগতা।

নানা রকমের ঝড়ঝাপ্টা ও অন্ধকারের ভেতর আলো জ্বালিয়ে রাখার কাজটা মধ্যবিত্তই করেছে, তাকেই করতে হয়েছে। না করে উপায়ও ছিল না। কেননা সব দেশেই মধ্যবিত্ত সংস্কৃতিমনস্ক, আমাদের দেশেও তাই। আমাদের দেশে হয়তো কিছুটা বেশি। কেননা অন্যান্য ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অর্থনীতিতে, আমাদের অর্জনটা উৎফুল্ল হওয়ার মতো নয়, বরঞ্চ বেশ ¤্রয়িমাণ। সে জন্য মধ্যবিত্তের পক্ষে সাহিত্য, সংগীত, নৃত্যকলা, শিল্পকলার ওপর জোর দিতে হয়েছে। কেননা সংস্কৃতিতেই সে সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, অন্যত্র নয়। ব্যাপার আরো ছিল, সেটা হলো আত্মপরিচয়। সংস্কৃতি দিয়েই সে নিজেকে পরিচিত করেছে, অন্যের কাছে তো বটেই নিজের কাছেও। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল এই শ্রেণিরই মানুষ। বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম এবং মধুসূদন ও বেগম রোকেয়াও মধ্যবিত্তই। আলাউদ্দিন খাঁ, উদয়শঙ্কর, রবিশঙ্কর, সত্যজিৎ রায়, জয়নুল আবেদীন এই শ্রেণি থেকেই এসেছেন। জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সত্যেন বসু- সবাই মধ্যবিত্ত শ্রেণির সন্তান।

শিক্ষাকেও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের সমষ্টিগত অর্জন মধ্যবিত্তের কারণেই। বিজ্ঞানী হিসেবে যারা বড় মাপের কাজ করেছেন তাদের কেউই মধ্যবিত্ত শ্রেণির বাইরে নন, হওয়া সম্ভব ছিল না, হওয়ার উপায় নেই। রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রত্যেকটিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছ থেকেই নেতৃত্ব এসেছে, তা সে আন্দোলন উদারনৈতিক হোক, কিংবা হোক বামপন্থি। চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষ বসু, এ কে ফজলুল হক সবাই মধ্যবিত্ত, শেখ মুজিবুর রহমানও তাই, মওলানা ভাসানী এবং কমরেড মুজফফর আহমদ দুজনই মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে এসেছেন। রাজনৈতিক সচেতনতা যা তৈরি হচ্ছে সেটাও মধ্যবিত্তেরই অবদান। কৃষক আন্দোলন হয়েছে, তাতে তীব্রতা ছিল অচেতনতাও ছিল, কিন্তু সেগুলো স্থানীয় এবং বিচ্ছিন্ন। ব্যাপক আন্দোলন মধ্যবিত্ত নেতৃত্বেই তৈরি।

উচ্চবিত্তরা আন্দোলনে আসা পছন্দ করেনি। তাদের সংখ্যাও অবশ্য কম ছিল। কিন্তু মধ্যবিত্তের অসুবিধা যেটা তাহলো উচ্চবিত্তের সামনে মধ্যবিত্তের এক ধরনের হীনম্মন্যতা বোধ। সরাসরি বলতে চাইলে বলা যায় যে, মধ্যবিত্ত নিজেই উচ্চবিত্ত হতে চায়। নিচে নামাকে সে যত ভয় করে ততটা ভয় মৃত্যুকেও করে কিনা সন্দেহ। উচ্চবিত্তের পক্ষে নিচে নেমে যাওয়ার ভয়টা কম। সে জানে যে, সে রয়েছে বেশ শক্ত অবস্থানে। রাজনৈতিক আন্দোলন হয়, হবে, হচ্ছে, রাষ্ট্রের ভাঙাগড়া চলছে, আরো চলবে, কিন্তু উচ্চবিত্তের তাতে কোনো বিপদ ঘটে না। সে নিরাপদই থাকে। কেবল তাই নয়, তার সুবিধাই হয়। দেশে এত যে রাষ্ট্রনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেল এর কোনোটাই বিত্তবানদের জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনেনি, বরঞ্চ প্রত্যেকটি পরিবর্তনেই সে লাভবান হয়েছে, আগে যতটা ধনী ছিল পরে তার চেয়ে অধিক ধনী হয়েছে। ওই পরিবর্তনগুলো মধ্যবিত্তের একাংশের জন্যও লাভের কারণ হয়েছে।

পাকিস্তান তৈরি, পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ গঠন, বাংলাদেশে নানা রাজনৈতিক ‘বিপ্লব’- এসবের ভেতর দিয়ে মধ্যবিত্তের একাংশ ওপরে উঠে গেছে, বিত্তবান হয়েছে, কারো কারো বিত্ত বৃদ্ধি পেয়েছে অবিশ্বাস্য পরিমাণে। অপরাংশ যেটা বড় অংশ আসলে সেটা গেছে নেমে। তাদের জীবনে সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু তাই বলে তারা যে বিত্তহীনদের সঙ্গে রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে এক হয়ে যেতে পেরেছে তা নয়। তারা মধ্যবিত্তই রয়ে গেছে, বলা যায় নিম্নমধ্যবিত্তের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, কিন্তু তাই বলে শ্রমজীবী হিসেবে নিজেদের গণ্য করবে, এমনটা ঘটেনি। এক্ষেত্রে সে চরমরূপে রক্ষণশীল। আর এখানেই রয়ে গেছে মধ্যবিত্তের প্রধান দুর্বলতা। তার লোভ ওপরে ওঠার। যখন সে ওঠে এবং যতটা ওঠে, তখন এবং ততটাই সে নিজেকে সার্থক ও সফল মনে করে। যখন সে পারে না তখন সে যে সাধারণ মানুষদের অংশ হিসেবে নিজেকে গণ্য করবে তেমনটা ঘটে না। তার আছে অভিমান, রয়েছে আত্মসচেতনতা, সে জানে সে শিক্ষিত, ভাবে তারও উচিত ছিল বিত্তবান হওয়া। এবং ঘৃণাই করে সে সাধারণ মানুষকে, যাদের সে দেখে মূর্খ, অজ্ঞান, নোংরা ইত্যাদি হিসেবে। ভয় পায় পাছে ওদের মতো হয়ে যায়। এই যে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থা, না ঘরের না ঘাটের অবস্থান, এটাই রেখেছে তাকে দুর্বল করে।

তাই দেখি মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলছে ঠিকই, কখনো কখনো মনে হয় বিপ্লব ঘটে যাবে, কিন্তু বিপ্লব ঘটে না। কেননা মধ্যবিত্ত আর যাই চাক প্রকৃত বিপ্লব চায় না। নানা রকমের বিপ্লবের কথা সে বলে, রাজনৈতিক বিপ্লব, শিক্ষায় বিপ্লব, এমনকি সংস্কৃতিতেও বিপ্লব ঘটেছে সে দেখতে পায়, কিন্তু আসল যে বিপ্লব, অর্থাৎ মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন, সমাজ ও রাষ্ট্রে যথার্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তার ব্যাপারে মুখে যতই ধ্বনি দিক অন্তরে সে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করবে কি, চেষ্টা করে তাকে প্রতিহত করতে। এক্ষেত্রে বাঙালি মধ্যবিত্তের সবচেয়ে স্পষ্ট এবং শ্রেষ্ঠ মুখপাত্র আর কেউ নন, স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ই, যিনি আমাদের সবার পক্ষ হয়ে কথা বলে গেছেন। বলেছেন, ‘আমরা সামাজিক বিপ্লবের অনুমোদক নহি’। বাঙালি মধ্যবিত্ত সম্পর্কে এর চেয়ে সত্য কথা আর কী হতে পারে?

এই ভীতির কারণটাও স্পষ্ট। কারণ হচ্ছে স্বার্থ। মধ্যবিত্ত বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষ ঠিকই আছে। এই ব্যবস্থায় সে যে পরিবর্তন চায় সেটাও সত্য। কিন্তু তার মানে কখনো এটা নয় যে, মধ্যবিত্ত সমাজে সাম্য চায়। সে আসলে বৈষম্যের ভক্ত। তার অভিযোগটা ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগতভাবে সে বঞ্চিত। তার যোগ্যতা আছে, অথচ যোগ্যতার কোনো মর্যাদা নেই। তাই সে চায় সমাজব্যবস্থা এমন হোক যাতে সে ন্যায়বিচার পায়। অর্থাৎ ধনী হতে পারে। মুখ তার উপরমুখো। তার স্বার্থ গরিব মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত নয়।
আমরা বলতেই পারি যে, সবার স্বার্থের সঙ্গে ব্যক্তির স্বার্থ অভিন্ন। সবাইকে গরিব রেখে অল্প কয়েকজন ধনী হলে বিপদ আছে। কেননা বাদবাকি সবাই তখন ধনী মানুষটির বিরুদ্ধে লেগে যাবে, তাকে টেনে নামাবে, না নামানো পর্যন্ত ক্ষান্ত হবে না। আমরা সেটা বলিও। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সাড়া দিই না। ভেতরে ভয় পাই গরিব হয়ে যাওয়াকে। শ্রেণিচুত্য হওয়ার ভয়টা মারাত্মক। যদি সবার সঙ্গে মিশে যাই তাহলে আমি তো নির্বিশেষ হয়ে গেলাম, কোথায় আমার নিজস্বতা, কিই-বা মূল্য আমার শিক্ষা ও সংস্কৃতির? নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার এই আকাক্সক্ষাই মধ্যবিত্তকে বিপ্লব-ভীরু করেছে। বিপ্লব-ভীরু নয়, আসলে বিপ্লববিরোধী। প্রথমটা থেকেই দ্বিতীয়টা এসেছে।

সমাজ পরিবর্তনের বামপন্থি আন্দোলনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ অংশ নিয়েছে। কেবল অংশ নেয়নি, ওই আন্দোলন গড়েও উঠেছে মধ্যবিত্তের নেতৃত্বেই। সেক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে তা হলো এক ধরনের শ্রেণিচ্যুতি। সমষ্টিগত অবশ্যই নয়, একেবারেই ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগতভাবেই কেউ কেউ শ্রেণিকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছে। কিন্তু এগিয়ে যে গেছে সেটা যে সর্বক্ষেত্রে স্থায়ী হয়েছে তাই নয়। অনেকেই ফিরে এসেছে। চলে এসেছে নিজের শ্রেণির কাছে। তার কোলে। অল্প বয়সে গেছে, কিছুটা বয়স হলে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারণ আর কিছুই নয়, কারণ হচ্ছে শ্রেণি। শ্রেণিই তাকে ঘাড়ে ধরে টেনে নিয়ে এসেছে, বলেছে, তুমি সাধারণ নও, তোমাকে বিশিষ্ট হতে হবে, বিশিষ্ট হতে হলে তুমি অংশ হয়ে যাও শাসক শ্রেণির। অবিলম্বে করো ওই কাজ। কেননা ইতোমধ্যে তুমি কিছুটা সময় নষ্ট করে ফেলেছ, অন্যরা জায়গা দখল করে ফেলেছে, তোমাকে তাই কিছুটা বেশি তৎপর হতে হবে, নইলে হতাশাই হবে তোমার চিরস্থায়ী বিধিলিপি। আর যারা থেকে গেছে, বাম আন্দোলন থেকে বিচ্যুত হয়নি, কষ্ট করেছে অমানুষিক, আত্মত্যাগ করেছে অসামান্য তারাও যে পরিপূর্ণরূপে শ্রেণিচ্যুত হয়েছে তা নয়। শ্রেণিচ্যুত হলে এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো এবং মানুষ এভাবে হতাশাগ্রস্ত ও দুর্দশায় নিক্ষিপ্ত থাকত না।

বাম আন্দোলনের নেতারা শ্রেণিচ্যুত হতে পারেননি বলেই দেখি তারা মধ্যবিত্তের বিচ্ছিন্নতাকে লালন করছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকছেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে অভিন্ন হয়ে যেতে পারছেন না। যেন এসেছেন শিক্ষক হিসেবে, এসেছেন আত্মত্যাগী রূপে। ভেতরে রয়ে গেছে আত্মসচেতনতা ও আত্মঅভিযান, যে দুই গুণ মধ্যবিত্তকে মধ্যবিত্ত রাখে, তাকে অবিচ্ছিন্ন হতে দেয় না সাধারণ মানুষের সঙ্গে। আর আছে পরমুখাপেক্ষিতা। বাঙালি মধ্যবিত্ত তার উত্থান ও বৃদ্ধিতে পরিপূর্ণরূপে পরনির্ভর। উৎপাদন ব্যবস্থার ভেতর থেকে সে উঠে আসেনি, তার জন্ম হয়েছে দেশের শাসকশ্রেণির সহযোগিতায়, বৃদ্ধি ঘটেছে উচ্ছিষ্ট ভোগে। তার পক্ষে মেরুদ- সোজা করে দাঁড়ানো তাই খুবই কঠিন। বাম আন্দোলনেও সে ওই একই দুর্বলতাকে সঙ্গে বয়ে নিয়ে গেছে। নির্দেশ চেয়েছে বিদেশের পার্টির কাছ থেকে। আরো বড় কথা, শাসকশ্রেণির দলগুলো থেকে নিজেকে সে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, সে জন্য হয় এই দল নয়তো ওই দলের লেজুড় হয়ে পড়েছে। লেজুড় কি পারে বিপ্লব করতে? পারে না এবং পারেওনি। পারবেও না, যদি না পরিপূর্ণরূপে শ্রেণিচ্যুত হয়। বাম আন্দোলনের বাইরে যে মধ্যবিত্ত সে তো বরাবরই এবং চরিত্রগতভাবেই বিপ্লববিরোধী। মধ্যবিত্তের বক্তব্য এ রকমের যে, এ দেশে চরমপন্থার কোনো স্থান নেই, হঠকারী ও জিনিস এখানে চলবে না। অথচ চরম দারিদ্র্য, চরম নিষ্পেষণ এসব কিন্তু ঠিকই চলে যাচ্ছে। দুয়েক দিন ধরে নয়, যুগ যুগ ধরে। তবে উপায় কী? মধ্যবিত্ত বলবে উপায় হচ্ছে সংস্কার। ধীরে ধীরে করতে হবে। সইয়ে সইয়ে। এর ফল হয়েছে এই যে বৈষম্য বাড়ছে, নিষ্পেষণ দুঃসহ হয়ে উঠছে। এবং পুরনো ব্যবস্থা ঠিকই থেকে যাচ্ছে। সংস্কারপন্থা গুপ্ত ইচ্ছাটা অন্য কিছু নয়। সেটা হচ্ছে সংরক্ষণ। মধ্যবিত্ত আমূল পরিবর্তন চায় না, চায় সে সংস্কারের মধ্য দিয়ে সংরক্ষণ।

আমরা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তের অবদানের কথা বলি। সেটা ঠিকই আছে। অবদান অস্বীকার করবে কে। কিন্তু মধ্যবিত্তের কারণে ওই সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে রয়েছে। তাতে ব্যাপক জনগণের অংশ নেই, যার জন্য প্রাণশক্তিতে সে ক্ষীণ। বলা যায় সঙ্কীর্ণ। সেখানে গণতান্ত্রিকতা নেই, নেই সেই ইহজাগতিকতা, যা শ্রমজীবী মানুষের জীবনের বৈশিষ্ট্য। এ দেশের মধ্যবিত্ত ধর্মভীরু, একাংশ সাম্প্রদায়িক, এখন তারা মৌলবাদীও হয়েছে; এই দৃষ্টিভঙ্গি তারা জনগণের ভেতর সংক্রমিত করে। অতীতে করেছে, এখনো করছে।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

চট্টগ্রাম মেডিকেলে এক হাজতির মৃত্যু

0
চট্রগাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক হাজতি মারা গেছেন।

সোমবার গভীর রাতে সুমন নামের এক হাজতির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

তিনি বলেন, গত বছরের ১ আগস্ট বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আসেন সুমন। গত ১২ জুলাই তিনি স্ট্রোক করেন। তখন থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দারুণ জয়ে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড

0
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল

দ্রোহ স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সময়ও যেন ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই লড়াইয়ে জিতে টেস্ট সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে জো রুটের দল। পঞ্চম দিন সকালে তারা টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাটিংয়ের পর দারুণ বোলিংয়ে গুটিয়ে দিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

ম্যানচেস্টারে দ্বিতীয় টেস্টে ১১৩ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৩১২ রান তাড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে জেসন হোল্ডারের দল থমকে গেছে ১৯৮ রানে। ম্যাচ বাঁচাতে শেষ দিন ৮৫ ওভার কাটিয়ে দিতে হতো সফরকারীদের। তাদের ইনিংস টিকেছে ৭০.১ ওভার।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সোমবার ২ উইকেটে ৩৭ রানে দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। প্রথম থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন বেন স্টোকস। তাকে সঙ্গ দিয়ে যান জো রুট। পরে অলরাউন্ডারকে স্ট্রাইক দিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন স্বাগতিক অধিনায়ক।

আরও পড়ুন-খোকসায় পোনামাছ অবমুক্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে ৩৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন স্টোকস। শেষ অবধি ৫৭ বলে তিন ছক্কা ও চারটি চারে অপরাজিত থাকেন ৭৮ রানে। ১১ ওভারে ৯২ রান যোগ করা ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে ১২৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে।

লাঞ্চের আগেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। জন ক্যাম্পবেলকে কট বিহাইন্ড করার পর শেই হোপকে বোল্ড করেন স্টুয়ার্ট ব্রড। দুই অঙ্ক ছুঁয়েই ক্রিস ওকসের বলে এলবিডবি¬উ হয়ে যান ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট।

সাউথ্যাম্পটন টেস্টে একই ধরনের শুরুর পরও ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার লড়াই ছিল বাঁচানোর, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি দলটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৬৯/৯ ইনিংস ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: (আগের দিন শেষে ৩২/১) ৯৯ ওভারে ২৮৭ (ব্র্যাথওয়েট ৭৫, জোসেফ ৩২, হোপ ২৫, ব্রুকস ৬৮, চেইস ৫১, ব¬্যাকউড ০ ডাওরিচ ০, হোল্ডার ২, রোচ ৫*, গ্যাব্রিয়েল ০; ব্রড ২৩-৭-৬৬-৩, ওকস ২১-১০-৪২-৩, কারান ২০-৪-৭০-২, বেস ২১-৩-৬৭-১, রুট ১-১-০-০, স্টোকস ১৩-৩-২৯-১)

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৩৭/২) ১৯ ওভার ১২৯/৩ ইনিংস ঘোষণা (স্টোকস ৭৮, রুট ২২, পোপ ১২*; রোচ ৬-০-৩৭-২, গ্যাব্রিয়েল ৭-০-৪৩-০, হোল্ডার ৪-০-৩৩-০, জোসেপ ২-০-১৪-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৭০.১ ওভারে ১৯৮ (ব্র্যাথওয়েট ১২, ক্যাম্পবেল ৪, হোপ ৭, ব্রুকস ৬২, চেইস ৬, ব¬্যাকউড ৫৫, ডাওরিচ ০, হোল্ডার ৩৫, রোচ ৫, জোসেফ ৯, গ্যাব্রিয়েল ০*; ব্রড ১৫-৫-৪২-৩, ওকস ১৬-৩-৩৪-২, কারান ৮-৩-৩০-১, বেস ১৫.১-৩-৫৯-২, স্টোকস ১৪.৪-৪-৩০-২, রুট ১.২-১-০-০)
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১১৩ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যাচ সেরা: বেন স্টোকস

দলের জয় রেকর্ডের চেয়ে বড়-রোনালদো

0
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

দ্রোহ স্পোর্টস ডেস্ক

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এরই মধ্যে গড়েছেন কিছু রেকর্ড, হাতছানি দিচ্ছে আরও কয়েকটি। তবে ব্যক্তিগত এই সব অর্জনের চেয়ে দলের জয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্তুগিজের এই তারকা খেলোয়ার।

সেরি আয় সোমবার রাতে রোনালদোর জোড়া গোলে লাৎসিওকে ২-১ গোলে হারায় ইউভেন্তুস। একই ম্যাচে বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও সেরি আয় অন্তত ৫০টি করে গোল করার রেকর্ড গড়েন। এক মৌসুমে পেনাল্টি শটের সবগুলো (১২) থেকে গোল করে ছাড়িয়ে যান রাবের্তো বাজ্জিওর আগের রেকর্ড।

আরও দেখুন তৃতীয় শ্রেনীর –অনলাইন ক্লাস – ভাষা শহিদদের কথা (১)

আরও পড়ুন-খোকসায় পোনামাছ অবমুক্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

সেরি আয় ত্রুততম ৫০ গোলের রেকর্ডও গড়েছেন (৬১ ম্যাচে)। হাতছানি দিচ্ছে আরও কয়েকটি রেকর্ড। এবারের আসরে রোনালদোর গোল হলো ৩০টি। তার সমান গোল লাৎসিওর চিরো ইম্মোবিলের। সুযোগ আছে সেরি আয় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড করার।

রেকর্ডগুলো সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, তবে দলের জয় তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। আমি দলকে জিততে সাহায্য করছি। শিরোপাটি জেতা গুরুত্বপূর্ণ। আর চার ম্যাচ বাকি আছে এবং আমরা জানি, সেরি আয় একটি কঠিন চ্যাম্পিয়নশিপ।

সর্বশেষ সংবাদ

মশার কয়েল থেকে অগ্নিকান্ডে দুই কৃষক অগ্নিদগ্ধ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরুর ঘরে মশা তাড়াতে জ্বালানো কয়েল থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কৃষকের গবাদিপশু, বসতঘর ও ঘরে থাকা ফসল পুড়ে...

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাই – ভাতিজাদের সংঘর্ষ আহত ১৬

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির মাত্র ৬ শতাংশ জমি নিয়ে চাচাতো ভাই - ভাতিজাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের...

বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ‎ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুই কৃষক। শনিবার দুপুরে উপজেলার খড়িবাড়িয়া মাঠের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী সূত্রে...

বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদক ও মালামাল উদ্ধার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদক ও চোরচালানী মালামাল উদ্ধার করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে এক...

আগুনে পুড়ে ছাই হলো দুই ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 'বিশ বছর আগে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। কষ্টেমষ্টে তিলেতিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ হয়ছিল। আর আমার কিছুই অবশিষ্ট নেই।...