বিশেষ প্রতিনিধি. কুমারখালী থেকে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অবৈধভাবে রেলওয়ের জলাশয় ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলদার জাহিদ হোসেন প্রথমে বালু দিয়ে রেলওয়ের জলাশয় ভরাট করে টিনের ঘর নির্মাণের পর এখন পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। কুমারখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন ও বাটিকামারা-তেবাড়িয়া রেলগেট এলাকায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে গাড়িভর্তি বালু এনে সরকারি জলাশয়টি ভরাট করা হয়। এ নিয়ে একাধিকবার রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি দপ্তর নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
কুমারখালী সরকারি কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী রেলস্টেশনের পূর্ব প্রান্ত থেকে বাটিকামারা রেলগেট পর্যন্ত প্রায় এক একর ৩৪ শতাংশ অকৃষি (জলাশয়), ২৯ শতাংশ কৃষি এবং ৩ হাজার ১০০ বর্গফুট বাণিজ্যিক রেলের জমি রয়েছে। এসব জমি ১৯৯৬ সাল থেকে কুমারখালী সরকারি কলেজের ইজারায় ছিল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগে ২০২৪ সালে জলাশয়ের একটি অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন জাহিদ হোসেন।
২০ জানুয়ারি কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার অভিযান চালিয়ে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। তবে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জলাশয়ের পূর্বাংশ ভরাট করে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ভেতরে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রবেশপথে তালা ঝুলছে এবং ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে কাজ বন্ধ থাকলেও জমির মালিকের নির্দেশে ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জলাশয় দখল ও স্থাপনা নির্মাণের পেছনে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা অবিলম্বে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রকাশ্যে সরকারি জলাশয় ভরাট করে পাকা ইমারত নির্মাণ হচ্ছে এটা চরম দুঃখজনক। একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
কুমারখালী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ বিনয় কুমার সরকার বলেন, রেলের জমি কলেজের নামে লিজ নেওয়া ছিল। কিন্তু প্রভাবশালীরা জলাশয়ের একটি অংশ দখল করে এখন পাকা ভবন নির্মাণ করছে। বিষয়টি জানালেও রেল কর্তৃপক্ষ কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সম্প্রতি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই জলাশয় ভরাট করে একটি স্কুলের জন্য ভবন নির্মাণ করছেন। যদিও তিনি এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো.আরিফুল ইসলাম বলেন, কাজ আবার শুরু হয়েছে কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার জানান, জমির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ অবৈধ। পুনরায় কাজ শুরু হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






