ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলো ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অবৈধ গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রæতি দিয়ে একটি গাইড বই কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঞ্জেরী পাবলিকেশন কোম্পানীর অবৈধ গাইড চালানোর কথা বলে শিক্ষাক সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব অর্ধকোটি টাকা চুক্তি করেন। উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের অবৈধ গাইড কিনতে চাপ দিতে শুরু করে স্কুল গুলোর কতিপয় শিক্ষক। তবে শিক্ষক অভিভাবকদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেন। গাইড কোম্পানী ইতোমধ্যে সমিতির একটি ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা দিয়েছে বলে সূত্র গুলি নিশ্চিত করেছেন। বাঁকীঁ টাকা লেনদেন হয় নগদে। বিষয়টি সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে জেলা শিক্ষা অফিস গত ১৯ ফেব্রæয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা ও সময় ক্ষেপনের অভিযোগ উঠেছে।
সেলিম হোসেন নামে এক অভিবাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে মেয়েকে শিক্ষকরা পাঞ্জেরী পাবলিকেশন গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এতো টাকা দিয়ে পাঞ্জেরী গাইড কিনতে পারছেন না।
কালিগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সদস্য সচিব আহসান হাবীব গাইড বাই কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।
সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগাগ করার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্নকার জানান, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন এখন বৈধ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, তদন্ত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রæতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড কেনার পরামর্শ ও অর্থ দেওয়া বে আইনী। শিক্ষকরা এটা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়, এটা অবৈধ। তিনি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুসিয়ারী এবং বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছেন।






