স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় মক্কা মদিনা নামের একটি পেট্রোল পাম্পোর আন্ডার গ্রাউন্ডে কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল থাকলেও গতদুই দিন (শুক্র ও শনিবার) মোরসাইকেল চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেট্রোল বিক্রি বন্ধের কারণ বলতে পারেনি ট্যাগ অফিসার, ম্যানেজার ও মালিক। কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালি সিদ্ধান্তে মোটরসাইকেল চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
পেট্রোলের কৃত্রিম সংকটের শুরু থেকে উপজেলা সদরের দুটি পেট্রোল পাম্প থেকে ছুটির দিনসহ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে একদিন পর পর একদিন পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছিলো। মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন থেকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই পাম্প কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটের মুজদ থাকলেও শুক্র ও শনিবার পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব ঘোষনা অনুয়ায়ি শনিবার ভোর থেকে পাম্পের সামেনে শতশত মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে যান। সকাল ৯টার দিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় পেট্রোল দেওয়া হবে না। পরে পেট্রোল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা ফিরে যায়।
বেলা ১২টার দিকে মক্কা মদিনা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তখনো পেট্রোল পাওয়ার আশায় কয়েকশ মোটর সাইকেল চালক পাম্প কেন্দ্রিক পেট্রোলের জন্য অপেক্ষো করছেন। পাম্পের ভিতরে বেশ কিছু মোটর সাইকেল চালক অপেক্ষা করছেন। তাদের তেল তা দিয়ে বিভিন্ন কনটেনারে করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোলের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল শিক্ষক আশিকুর রহমান, মনিরুজ্জামান, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই পাম্প মালিকের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এসব শিক্ষকরা জানান, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে ভোর ৫টায় এসে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন। প্রায় চার ঘন্টা পর সকাল ৯ টায় তাদের জানানো হয় আজ তেল দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাচারী পাম্প মালিকদের বিচারের দাবিও করেন তারা।
পাম্প মালিক আনোয়ার খানের সাথে কথা বলা হলে প্রথমে তিনি জানান, পাম্পে পেট্রোল নেই। খুলনা ডিপু থেকে তেলবাহী ট্রাংক লড়ি আসছে। সাথে সাথে কথা পাল্টে বলেন, কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ আছে তা তিনি জানেন না। তিনি ম্যানেজারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পাম্পটির ম্যানেজার জামশেদ রহমান তরুন জানান, টানা কয়েকদিন অধিক পরিশ্রমের কারনে কর্মচারীরা ক্লান্ত। তাই পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন তাদের পাম্পের আন্ডার গ্রাউন্ডে ২ হাজার লিটার পেট্রোল আছে। আগামী কাল রবিবার ট্যাগ অফিসারের অনুমতি পেলে পেট্রোল বিক্রি করা হতে পারে।
ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হানের সাথে ফোনে কথা বলা হয়। তিনিও জানেন না কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বীকার করেন পাম্পে দুই দফায় আনা কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পেট্রোল ডিজেল সুষ্ট বন্টনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহানের সাথে সর্বশেষ রাত ৯টায় মুঠো কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসভ করেন নি।



