কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫) হত্যাকান্ড ও দরবারে সংঘটিত হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কোন নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে কুষ্টিয়া শহরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বেলাল হোসেন, দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুব বিভাগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পলাশসহ জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বেলাল হোসেন বলেন, সম্প্রতি ফিলিপনগরে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক জেলা সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহমেদ-কে প্রধান আসামি হিসেবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাকেও এ ঘটনায় সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
উক্ত ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো নেতাকর্মীর ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। বরং ঘটনার সূচনা ে থেকেই দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অবস্থান গ্রহণ করে আসছে।
এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল যা এ ঘটনাকে ঘিরে জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনগণও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। অতএব, একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই কোনো মতপার্থক্য বা আদর্শিক দ্ব›দ্ব কখনোই সহিংসতা কিংবা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে না। বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকান্ডের প্রতি আমাদের কোনো ধরনের সমর্থন নেই এবং কখনো ছিল না।
দুঃখজনকভাবে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতৃবৃন্দকে এ ঘটনায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মুহাম্মদ খাজা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপনগর এলাকায় মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ববিরোধী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর এ অবস্থানই একটি স্বৈরাচারী মানসিকতাসম্পন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় তাঁকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন ঘোষণা করছি আমরা নির্দোষ। আমরা সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবিচল আছি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করবো।
প্রসঙ্গত, ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের কয়েক বছর আগের একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজ আস্তানায় কয়েকশ মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমনে নিহত হন ওই দরবারের প্রধান আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫)। এছাড়াও শামীমের তিন অনুসারীও আহত হন। আস্তানায় দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর এবং আগুন দেয়া হয়। মূল্যবান সম্পদ লুটেরও অভিযোগ ওঠে।



