মায়ের কোল থেকে নেমেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলো শিশু

0
12

স্টাফ রিপোর্টার

মায়ের কোল থেকে নেমেই দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় পাখি ভ্যানের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে প্লে-গ্রুপের শিশু শিক্ষার্থী ইহসান আব্দুল্লাহ মার গেছে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কাদিরপুরে ইহসান আব্দুল্লাহ (৫) নিহত হয়। সে তামিম ইসলামিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড মাদ্রাসার প্লে-গ্রæপের ছাত্র ছিলো। নিহত শিশুটি গোপগ্রাম ইউনিয়নের বড়ই চারা গ্রামের রাজিব হোসেনের ছেলে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিশুটিকে নিয়ে তার মা আসমা খাতুন একটি পাখিভ্যানে খোকসা-শোমসপুর সড়কের কাদিরপুরে ওই মাদ্রাসার সামনে পৌঁচ্ছান। এ সময় মা তার শিশুপুত্রকে কোল থেকে নামিয়ে ভ্যান চালকের ভাড়া পরিশোধ করতে যায়। মুহুত্যের মধ্যে শিশু ইহসান আব্দুল্লাহ মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হতে দৌড় দেয়। এ সময় অপর একটি দ্রæতগতির পাখিভ্যান চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে শিশুটিকে চাপা দেয়। আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। ইতোমধ্যে ঘাতক পাখি ভ্যানের চালক পালিয়ে যায়।

নিজের কোল থেকে নামিয়ে দেওয়ার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে শিশু সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাক রুদ্ধ হয়ে গেছেন মা আসমা খাতুন। বাবা রাজিব হোসেন পুত্র শোকে ঢুকরে কাঁদছেন। তাকে থামানো যাচ্ছে না। হাসপাতাল কমপ্লেক্স জুড়ে তখন শোকের মাতম চলছিলো। মৃত নাতিকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কাঁদছেন দাদা আকরাম হোসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে তাদের হেফাজতে রাখার চেষ্টা করছেন। সব বাঁধা উপেক্ষা করে মৃত নাতি ইহসান আব্দুল্লাকে ভ্যানে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

তামিম ইসলামিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড মাদ্রাসার মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে প্রতিদিন তার বাবা রাজিব হোসেন নিয়ে আসতেন। দুর্ঘটনার দিন শিশুটিকে তার মা নিয়ে আসেন। তিনি ভ্যানের ভাড়া পরিশোধ কারার সময় শিশুটি রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দেয়। এসময় দ্রæতগতির একটি ভ্যান তার বুকের উপর দিয়ে উঠে যায়। তারা সাথে সাথে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটি শান্ত প্রকৃতির ছিলো।

আমজাদ হোসেন বাবালু নাতির মৃত্যুকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। বাবাবার মুসরা যাচ্ছেন। তবে এর মধ্যে বলছেন, তার মত আর কারো যেনো বুক খালি না হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে পরিবারের লোকেরা তাকে নিয়ে গেছে।

খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা জাকির হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করেনি। পরিবারের দাবি, অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।