Home breaking news কবে দুধ খেয়েছেন মনে নেই গড়াই মন্ডলের, আছে কিস্তির চাপ

কবে দুধ খেয়েছেন মনে নেই গড়াই মন্ডলের, আছে কিস্তির চাপ

0
8

স্টাফ রিপোর্টার

“ ভালো নেই বাপ, সেদিন ল-পেসার ( ব্লাড প্রেসার কমে) হয়ে রাস্তায় পরে ছিলাম। একটু দুধ ডিম খাওয়ার উপয়নেই, কিস্তি ওয়ালেদের চাপ আছে।” নদীতে বড়শি দিয়ে সারাদিন ৪শ টাকার মাছ ধরে ছিলেন। কিস্তির ৩শ টাকা রেখে একশ টাকা দিয়ে আলু পটল লবন সাথে নাতিপুতির জন্য ১টা কলা কিনে বাড়ি ফিরছেন বৃদ্ধ গড়াই মন্ডল (৭৫)। এই বয়সে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করেন তার পরেও কতদিন আগে দুধ খেয়েছেন তার মনে নেই।

কুষ্টিয়ার খোকসার হিলালপুর আদিবাসি পল্লীর বাসিন্দার গড়াই মন্ডল ও শান্তি মন্ডল দম্পতি। পেশায় মৎস্য জীবী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ভুক্ত গড়াই মন্ডল সারদিন নদীতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেন। স্ত্রী শান্তি মন্ডল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাসায়নিকের খালি টিন ধোয়ার কাজ করেন। দুই জনের আয় দিয়ে কোন রকম খেয়ে পড়ে চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু বড় ছেলের থাকার ঘর তৈরীর জন্য ২০ হাজার টাকার কিস্তি তুলে ১২ খানা টিনের ছাপড়া ঘর বানিয়ে বিপদে আছে। প্রতি সপ্তাহে ৫৫০ টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে বাজারে নিত্যপন্যের উদ্ধগতি ফলে সংসার চালিয়ে কিস্তি পরিশোদ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। একটু দুধ তো দূরের কথা পেট ভরে দুই বেলা খাবার জোঠানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হিলালপুর আদিবাসী পল্লীতে ‘বিন্দি সম্প্রদায়ের’ প্রায় ৫০টি পরিবার বসবাস করে। বংশ পরম্পরায় তাদের মূল পেশা নদী খাল বিলসহ মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরা। কেউ কেউ কৃষি শ্রমিক হিসাবেও কাজ করেন। মুক্ত জলাশয় কমে যাওয়া তারা মূল পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এই পল্লীর প্রায় ২০ জন বৃদ্ধ নারী ভিক্ষাবৃত্তি পেশা বেছে নিয়েছে। গড়াই মন্ডলের মত যারা পৈত্রিক পেশা ধরে আছেন তারা অনাহারে অর্ধাহারে মনবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের ডাক বাংলা রোডের মাথায় দাঁড়িয় গড়াই মন্ডল তার নিজের ও প্রতিবেশীদের সমস্য তুলে ধরে বলেন, স্বামী স্ত্রী দু’জনেই কাজ করেন। প্রতিদিন যা আয় করেন তা দিয়ে দুই বেলা দুই মুঠো ভাতই হচ্ছে না। মাসে এক পোয়া দুধও কিনতে পারেন না। সুস্থ থাকার জন্য ভালো-মন্দো খাবেন কি দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, সারা দিনে নদী সাতরে ৪ শ টাকার মাছ ধরে ছিলেন। ৯ জনের সংসারের জন্য এক কেজি আলু, পটল লবন আর নাতিপুতির জন্য ৫টাকা দামের একটা কলা কিনেছেন। দিনের আয়ের অবশিষ্ট ৩শ টাকা কিস্তির জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

আদিবাসিদের নেতা অভিমান্য মন্ডল বলেন, হিলালপুর আদিবাসি পল্লীর সবাই মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলাশয় কমে যাওয়ায় প্রত্যেকের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের সবাই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।